যেখানে শুরুর আগে বলার আগেই শেষ—অন্যতম জনপ্রিয় এক বাংলা গানের এই লাইনটি আজ সিলেট টাইটান্স-নোয়াখালী এক্সপ্রেস ম্যাচ দেখে অনেকের মনে পড়তেই পারে। নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিতে চোখে রীতিমতো সর্ষেফুল দেখেছে নোয়াখালী। স্কোরবোর্ডে ১০০ রান জমা করার আগেই যখন নোয়াখালী গুটিয়ে গেছে, ম্যাচের ফল অনেকটাই সেখানে নির্ধারিত হয়েছে।
এবারই প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তবে জয় যেন তাদের কাছে অমাবশ্যার চাঁদ হয়ে গেছে। নিজেদের প্রথম চার ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৬১ রানে গুটিয়ে গেছে। ৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জিতেছে।
৬২ রানের লক্ষ্যে নেমে দলীয় ১ রানেই ভেঙে যায় সিলেট টাইটান্সের উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ছন্দে থাকা সিলেটের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে (১) বোল্ড করেন বিলাল সামি। তবে লক্ষ্য যখন ৬২ রান, তখন আর কিসের চাপ! দ্বিতীয় উইকেটে ৩১ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তৌফিক খান ও জাকির হাসান।
সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে তৌফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জহির খান। ১৮ বলে ৭ চারে ৩২ রান করে তৌফিক বিদায় নেওয়ার পর ছোটখাটো ধস নামে সিলেটের ইনিংসে। ৬.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৫৪ রান থেকে মুহূর্তেই ৮.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ৬১ রানে পরিণত হয় মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন সিলেট। তাতে অবশ্য মিরাজদের জয় নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় তৈরি হয়নি। নবম ওভারের পঞ্চম বলে জহির খান ওয়াইড দিলে সেখানেই নিশ্চিত হয়ে যায় সিলেটের জয়।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের অধিনায়ক হায়দার আলী। নাসুমের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে ১৪.১ ওভারে ৬১ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। ইনিংস সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম ৪ ওভারে ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। সৌম্য সরকার, হায়দার আলী, মেহেদী হাসান রানা, জহির খান, বিলাল সামি—এই পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিয়েছেন নাসুম। যাঁদের মধ্যে রানা, জহির ও সামিকে ১৩তম ওভারে ফিরিয়েছেন নাসুম। তবে হ্যাটট্রিকটা করা হয়নি বাংলাদেশের এই তরুণ বাঁহাতি স্পিনারের।