একহারা গড়নের এক তরুণ পেসার। উইকেট নিয়ে শূন্যে লাফ। শফিউল ইসলামের এই উদ্যাপনটা বেশি দেখা গিয়েছিল ২০১০ সালে ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক জয়ের দিনে। সেদিন শফিউল অসাধারণ বোলিং করেছিলেন। জনাথন ট্রটকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয়টা এসেছিল তাঁর হাত ধরেই। সেই শফিউলের ক্যারিয়ার যতটা পরিপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। আফসোস-আক্ষেপে বিদায়ই বলে দিলেন পেশাদার ক্রিকেটকে।
মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টির পর আর বাংলাদেশের হয়ে খেলেননি শফিউল ইসলাম। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে সবশেষ গত বছরের মার্চে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। ১১ টেস্ট, ৬০ ওয়ানডে ও ২০ টি-টোয়েন্টি মিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯০ ম্যাচে নিয়েছেন ১০৭ উইকেট। ৩৬ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন তিনি। অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করে আজকের পত্রিকাকে শফিউল বলেন, ‘আক্ষেপ তো সবার থাকেই। সবশেষ যে অবহেলার শিকার হয়েছি, সেটা না হলে আরও কিছু দিতে পারতাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই সময়ে এসে নিজের সেরাটা দেওয়াও সম্ভব না। কাউকে দোষারোপ করতে চাই না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল মাঝরাতে দীর্ঘ এক পোস্টে পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন শফিউল। ৩৬ বছর বয়সী বাংলাদেশের এই পেসার, ‘আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছি। আজ থেকে সকল ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল। এই দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকার জন্য আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), আমার সকল সতীর্থ, কোচ এবং অগণিত ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসা আর দোয়া ছাড়া আজকের শফিউল হওয়া সম্ভব ছিল না।’
প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ছেড়ে নতুন জীবনে পদার্পণ করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শফিউল। ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার লিখেছেন, ‘ক্রিকেট মাঠে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি বা কেউ যদি আমার ব্যবহারে মনোক্ষুণ্ণ হন, তবে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। নতুন জীবনে পদার্পণ করছি। সবাই আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। ক্রিকেটের সঙ্গে ছিলাম ও ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকব। সবাইকে ধন্যবাদ।’
প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে তাঁর বিদায়টা হবে রঙিন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে এটা গড়ে ওঠেনি যে খুব কম ক্রিকেটারই মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারেন। শফিউল যে সেই লম্বা তালিকাতেই পড়লেন। এমন একসময় তিনি অবসর নিলেন, যখন তাঁর নামের পাশে লাল পতাকা ঝুলিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতি দমন বিভাগ। বিদায় বেলায় পুরোনো কিছু মনে করতে চান না ৩৬ বছর বয়সী বাংলাদেশের এই পেসার।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ২ উইকেটের জয়টাও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে শফিউলের কারণেই। নবম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ৫৬ বলে ৫৮ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েছিলেন শফিউল। ২৪ বলে ২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন শফিউল।