লড়াইটা ছিল ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের। মাঠের খেলায় না থাকলেও এই ম্যাচে জড়িয়ে ছিল পাকিস্তানের নাম। এই ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছিল সালমান আলী আগাদের সেমিফাইনালের ভাগ্য। শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয়নি পাকিস্তানকে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের গ্রুপ টুতে নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের এই জয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকল পাকিস্তান। সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামীকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। সে ম্যাচে জিততেই হবে পাকিস্তানকে। সেই সঙ্গে নেট রানের রেটের সমীকরণও মেলাতে হবে। তবেই ইংল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে এই গ্রুপ থেকে শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারবে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা। তাদের সঙ্গে সেমিফাইনালের আশায় রয়েছে নিউজিল্যান্ডও।
কলম্বোর প্রেমাদাসা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় এসে শুরুতেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। তাতে আস্কিং রানরেট দ্রুত বাড়তে থাকে। এই ম্যাচ হ্যারি ব্রুকরা জিতবেন, ইংল্যান্ড ইনিংসের শুরুতে তা ভাবা যায়নি। ৫৮ রান তুলতেই তারা হারিয়ে ফেলছিল ৪ উইকেট। কিন্তু শেষ দিকে উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৩ বল হাতে রেখেই জিতে যায় ইংল্যান্ড। সপ্তম উইকেটে ১৬ বলে ৪৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তাঁরা। উইল জ্যাকস ১৮ বলে ৩২ রান করেন। ৪টি চার ১টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংস। আর ৭ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন রেহান। এ ছাড়া টম ব্যান্টন ৩৩ এবং হ্যারি ব্রুক করেন ২৬ রান।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের শুরুটা দুর্দান্তই হয়েছিল। টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন ওপেনিংয়ে ৬৪ রানের জুটি এনে দিয়েছিলেন। কোনো উইকেট না হারিয়েই পাওয়ার প্লেতে কিউইরা তুলে ফেলছিল ৫৪ রান। কিন্তু সপ্তম ওভারেই ছন্দপতন। ব্যক্তিগত ৩৫ রান করে আদিল রশিদের শিকার হয়ে ফিরে যান সেইফার্ট। পরের ওভারেই ফিরে যান ফিন অ্যালেনও (২৯)। বিনা উইকেটে ৬৪ থেকে নিউজিল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায়—৬৬ /২।
দলীয় সেঞ্চুরির আগে ফিরে যান রাচিন রবীন্দ্রও (১১)। তাতে চাপ বাড়ে ইংলিশ ব্যাটারদের ওপর। এই চাপ কাটাতে জুটি বাঁধেন মার্ক চাপম্যান ও গ্লেন ফিলিপস। কিন্তু সফল হতে পারেননি তাঁরা। ১৫ রান করে চাপম্যান ফিরে গেলে ভাঙে ১৮ বলে তাঁদের ২৬ রানের জুটি। তাঁকে অনুসরণ করেন ড্যারিল মিচেলও (৩)। ব্যাটারদের আসা-যাওয়ায় স্তিমিত হয়ে আসে কিউইদের রানের চাকা। গ্লেন ফিলিপস ২৮ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৯ রান করলে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দিতে পারে নিউজিল্যান্ড। বল হাতে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তিনজন—উইল জ্যাকস (২ / ২৩), আদিল রশিদ (২ / ২৮) ও রেহান আহমেদ (২ / ২৮)।