সাক্ষাৎকার

এনসিপির বক্তব্যে আলোড়িত হতে পারেনি মানুষ: আসিফ মোহাম্মদ শাহান

আসিফ মোহাম্মদ শাহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও নাগরিক কোয়ালিশনের সদস্য এবং উন্নয়ন, সুশাসন ও রাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট, সংস্কার, জুলাই সনদসহ নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা

দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশে একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে বিপুল জনমতের প্রতিফলনকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

এই নির্বাচনে বিএনপি একক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিএনপি যে এই নির্বাচনে জয়ী হবে, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। বিএনপির এই জয়ী হওয়া কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল না। এই নির্বাচনে প্রধানত দুটি ঘটনা ঘটেছে। প্রথমত, জনগণ স্থিতিশীলতার পক্ষে রায় দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে মানুষের মধ্যে যে একটা অনিশ্চয়তা, সেটা কাটানোর অপশন হিসেবে মানুষ বিএনপি এবং জামায়াত জোটকে তুলনা করে জনগণের একটা বড় অংশ বিএনপিকে গ্রহণ করে নিয়েছে। এর জন্য বিএনপির অতীতের কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বের বক্তব্য এবং পরিকল্পনা মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

অন্যদিকে অন্য দল ও জোটের ভোটগুলোও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে দেখলে দেখা যাবে, ’৯১ সালে জামায়াতের ভোট ছিল ১২ শতাংশ। সেটা এবার ৩১-৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জামায়াতের এবারে ভোটের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, যারা এবার জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা কেউ ইসলামি শাসন কায়েমের জন্য বা জামায়াতের আদর্শে মুগ্ধ হয়ে ভোট দেননি। আমার ধারণা, বিএনপির অনেক কর্মকাণ্ড অনেকের পছন্দ হয়নি বলে ভোটগুলো তাদের বাক্সে গেছে। এখন বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপরই নির্ভর করবে পরেরবার জামায়াতের ভোট বাড়বে কি কমবে। জামায়াতের ভোট আদর্শিক না হওয়ার কারণে বিএনপি ঠিকভাবে দেশ চালাতে না পারলে এই ভোটগুলো আবারও জামায়াতের দিকে চলে যেতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টার পর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?

এটা বিএনপির জন্য অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত সরকারি দলের কাছে সে রকম কোনো গুরুত্বপূর্ণ চেষ্টা দেখতে পাচ্ছি না। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে পরিবর্তন করার মাধ্যমে যাঁকে পদায়ন করা হলো, সেই ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্ত দেখলেই সেটা বোঝা যায়। আবার দুদকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন। সেখানকার নিয়োগপ্রক্রিয়াটা কেমন হবে, সেটা আমরা জানি না।

বিএনপি সরকার সামনে কী করবে, সেটা আমরা জানি না। তবে আমাদের বোঝা দরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন দুদক, মানবাধিকার ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন, নির্বাচন কমিশন—এগুলোকে বলা হয় জবাবদিহি নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠান। এগুলো কিন্তু কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান না, সেটা সবার মাথায় রাখা দরকার। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কাজ করা যাবে না। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজই হচ্ছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তাদেরকে যদি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাহলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হওয়ার সুযোগ থাকবে না। যেমন সংবাদপত্রের কাজ হলো সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করা। আবার তারাই যদি সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে তো জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

শুধু গত আওয়ামী লীগ সরকার না, এর আগে ’৯১ সাল থেকে দেখলে বোঝা যাবে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আমরা সব সময় দেখে আসছি এসব জায়গার প্রধানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। আবার তাঁরাই প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা বা সরকারি দলের চাওয়া অনুযায়ী কাজ করেছেন। ফলে কোনো সরকার দুর্নীতি করলেও তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। তার চেয়েও খারাপ কাজ হয়েছে, দুদককে ব্যবহার করা হয়েছে বিরোধী দলের লোককে শায়েস্তা করার কাজে। সরকার যখন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজ করেছে, তখন মানবাধিকার কমিশন নীরব থেকেছে। আমাদের আমলাতন্ত্রকে ভয়াবহভাবে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। এই রাজনীতিকরণ যখন বাড়তে থাকে, তখন আমলারা স্বাধীনভাবে তাঁদের মত প্রকাশ করতে পারেন না। আবার তাঁদের বিশেষজ্ঞের দক্ষতা দেখাতে পারেন না। ফলে সরকারও ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে পারে না।

এ জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া এবং একই সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার। ধরুন, দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পরেও তাদের কাজকর্মের মনিটরিং করা হলো না। তারা তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করল, সেটাও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া না। এই ধরনের একটা প্রচেষ্টা নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাজকর্মের জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। একইভাবে দুদককে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর চেয়ারম্যানকে জাতীয় সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এভাবে আমরা একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উন্নত করতে পারি।

জুলাই সনদে এসবের একটা রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। তার চেয়েও বড় কথা, বিএনপি তাদের ৩১ দফায় বলেছে, তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চায়। তারা সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব হলো, বিএনপিকে সে কথাটা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া ছাড়া গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। আমরা যদি চাপ না দিই তাহলে কোনো রাজনৈতিক দল সেটা যে করবে না, তার নমুনা এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

জামায়াতে ইসলামী ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি তারা এ অভিযোগ এনে দুজন সাবেক উপদেষ্টাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করেছে। জামায়াতের এই অভিযোগ তোলার কারণ কী?

এটাকে হাস্যকর বলা ছাড়া আর অন্য কিছু মনে করি না। প্রথমত, একজন উপদেষ্টার বক্তব্য শুনলে বোঝা যাবে, তিনি জামায়াত নিয়ে কিছু বলেননি। তিনি পরে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, তিনি নারী ভোটারের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে মজার ব্যাপার হলো, সাবেক উপদেষ্টা এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে নিয়ে জামায়াতের আপত্তি আছে। তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আবার তাঁকে চিঠি দিয়েছে তাদের আমিরের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়ার জন্য। এটা কি স্ববিরোধী নয়? আসলে তারা কী করতে চায়?

পৃথিবীর কোথাও নির্বাচন শতভাগ নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি নির্বাচনে কিছু না কিছু ঘটনা ঘটে। প্রশ্ন হলো, এই নির্বাচনে এমন কিছু হয়েছে কি না যে নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি বদলে গেছে। সেটা ২০১৮ সালে দেখা গেছে। এবারের নির্বাচনে যাঁরা পর্যবেক্ষক ছিলেন, তাঁরাও কিছু ত্রুটির কথা বলেছেন। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং করার কথা তাঁরাও বলেননি। যাঁরা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলছেন, তাঁরা কিন্তু নিজ দলের জয়ী আসনের ক্ষেত্রে কথাটি বলছেন না। এটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার। এ কারণে আমার কাছে এটা গ্রহণযোগ্য মনে হয় না।

বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। তাহলে কি বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না? আর যদি সেটা বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী দাঁড়াতে পারে?

বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারে দুই শর্তে। এক, তাদের নোট অব ডিসেন্টের বাইরে করবে না। দুই, বিএনপির কথাবার্তায় এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের পরে সেটা করতে পারে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে চাইছে না। অথবা তারা জুলাই সনদের অর্ডারকে সংবিধানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার পর শপথ নিতে পারে (হয়তোবা তারা এভাবে ভাবছে)।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন কেন করা দরকার? বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসে দেখা গেছে, জাতীয় সংসদকে ব্যবহার করে সংবিধান সংস্কার করা হয়েছে। যেমন পঞ্চম সংশোধনী সংসদের মাধ্যমে করা হয়েছে। একইভাবে সপ্তম ও অষ্টমও করা হয়েছে। এটার বিপদ হলো, (অনেকে বলেন) বাংলাদেশের সংসদ হলো সার্বভৌম। কথাটি আসলে পুরোপুরি ঠিক নয়। সংসদ যদি সার্বভৌম হয় তাহলে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যায়, জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্ত আবার কোর্টে যায়। এর আগেও কোর্ট সংসদের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। প্রশ্ন হলো, সংসদের সিদ্ধান্ত বাতিল করার ক্ষমতা কারও যদি থাকে তাহলে সংসদ কীভাবে সার্বভৌম হয়? বিপদটা হলো, পঞ্চম সংশোধনী আপিল বিভাগ বাতিল ঘোষণা করেছেন বেসিক স্ট্রাকচার ডকট্রিনের ওপর নির্ভর করে। প্রশ্ন হলো, এখন যদি জুলাই ঘোষণাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, ভবিষ্যতে আদালত একই আর্গুমেন্ট দিয়ে সেটাকে বাতিল করে দিতে পারেন। এটা টিকে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা যেভাবে অতীতে হয়েছে, আবারও হবে।

বিএনপি উচ্চকক্ষ করতে চায়। উচ্চকক্ষ যদি হয় তাহলে সংসদের কাঠামোরও পরিবর্তন হবে। যেটা মূল কাঠামো পরিবর্তনের মধ্যে পড়বে। যদি সংসদের অধিবেশন ডেকে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের জোরে এটাকে পরিবর্তন করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে এটা আবার আদালতে চ্যালেঞ্জ করে বাতিল করা হলে তাহলে তো জুলাই অভ্যুত্থানের পুরো অর্জনটাই ব্যাহত হয়ে যাবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রীর সময়সীমার কথা বলা হচ্ছে—এগুলো সংস্কারের পক্ষে বিএনপি। তারপরেও প্রতিটি বিষয় আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাদ হয়ে যেতে পারে ভবিষ্যতে। এখন এটা ঠেকানোর জন্য এই জাতীয় সংসদকে সীমিত আকারে গাঠনিক ক্ষমতা দিয়ে গণপরিষদে পরিণত করতে হবে, যেটা জনগণ গণভোটের মাধ্যমে রায় দিয়েছে। সংসদের যদি গাঠনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটবে। যেখানে চলতি সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘জনগণ হলো ক্ষমতার উৎস’। জনগণ যখন কোনো একটা রায় দেবে তখন আদালতের পক্ষে সেটা বাতিল করা সম্ভবপর হবে না। ফলে জুলাই সনদ বাতিল করা সম্ভব হবে না। আমি আশা করি, বিএনপি সেটা করবে।

সম্প্রতি নেপালে নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানপন্থীরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানপন্থীরা সেভাবে সফল না হওয়ার কারণ কী?

নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনা করা আমার কাছে সঠিক মনে হয় না। নেপালে কিন্তু একটা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। মাত্র দুই দিনের আন্দোলনে সরকারের পতন হয়েছে। আমাদের এখানে পরিস্থিতিটা ভিন্ন ছিল। এখানে ১৫-১৬ বছর ধরে একটা অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের ১০ বছরে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, সেগুলো ঠিকঠাকভাবে কাজ করার জায়গায় ছিল না। নির্বাচনের আগে এগুলো ঠিক করতে সময় লেগেছে।

নেপালের ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রধান বালেন্দ্র শাহ ছিলেন এক অর্থে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি এর আগে মেয়র ছিলেন। দেশের জনগণ তাঁর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছে। আবার তিনি অনেক ভালো কাজও করেছেন। আর আমাদের দেশের এনসিপির কোনো নেতার এ ধরনের কর্মকাণ্ড করার অভিজ্ঞতা নেই। একটু পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়, এনসিপির প্রধান নেতা কীভাবে রাষ্ট্র চালাবেন, তার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। দেশের জনগণ যে তাঁকে নিয়ে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করবে, সেটার কোনো সুযোগ ছিল না। আর নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ২০২২ সালে গঠিত হয়েছে। ফলে তারা কয়েক বছর সময় পেয়েছে তৃণমূলে গিয়ে জনগণের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। তারা কিন্তু তাদের রাজনীতিটা করেছে। আর এনসিপি গঠিত হয়েছে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর তারা শুধু একটা জুলাই পদযাত্রা করতে পেরেছে। এর বাইরে জনগণকে রিচ করার এবং তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এনসিপি কী চায়, সেটা জানানোর জন্য ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহর ছাড়া আর কোথাও যেতে পারেনি। যেমন খুলনায় গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, এনসিপি কী পার্টি বা এদের নেতা-কর্মী কী চায়—কেউ তা বলতে পারবে না। কিন্তু নেপালের সেই পার্টির কিন্তু সে জায়গায় সক্রিয়তা ছিল।

তবে নেপাল আর বাংলাদেশের মধ্যে একটা জায়গায় মিল আছে। নেপালের জনগণ প্রচলিত রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ ছিল, বাংলাদেশেও আমরা গণ-অভ্যুত্থানের পরে দেখেছি মানুষ একটা পরিবর্তন চায়। নেপালের ক্ষেত্রে জনগণ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার জায়গায় যখন অপশন খুঁজেছে, তখন তারা বালেন্দ্র শাহকে খুঁজে পেয়েছে। আর বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন খুঁজতে গিয়ে এনসিপির বক্তব্য দ্বারা আলোড়িত হতে পারেনি। কারণ, তারা নাহিদের প্রতি আস্থা না রেখে তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখেছে। ট্র্যাডিশনাল পার্টির প্রতিই আস্থা পেয়েছে। নেপালের ক্ষেত্রে জনগণ তাদের চাহিদা মোতাবেক পছন্দের পার্টি পেয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ চাহিদার সঙ্গে পছন্দসই পার্টি খুঁজে পায়নি। এটাই ছিল বড় ব্যাপার।

রাষ্ট্র কি নিজের দায়িত্ব এড়াচ্ছে

অনিয়মের জন্য শাস্তি কার্ড

শিশুদের ডেটা প্রোফাইলিং ব্যবসা: মেটা কেন ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে অযাচিত চাপ দিয়েছে

সংসদ হোক জনস্বার্থের কেন্দ্র

ইরান যুদ্ধ এবং দেশের সংকট মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ

ভবদহের জলাবদ্ধতার সমাধান যে উপায়ে

লজ্জাজনক

‘আমরা’ আর ‘ওরা’র ঐতিহ্য কি চালু থাকবে

মীমরা হয়ে উঠুক বাবা ও মায়ের ‘চোখের হারাই’

নেপালে তরুণদের জয় যে বার্তা দিচ্ছে