ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। তবু দিবসটি ঘিরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং বহিস্তর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দিবসটি ঘিরে সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিসপোজাল টিম ও ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, মহান শহীদ দিবসে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যাপক জনসমাগম হবে। এ উপলক্ষে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করবেন। শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও নিরাপত্তা সমস্যা দেখা যায়নি। অমর একুশের অনুষ্ঠানেও কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই।
তিনি জানান, নিরাপত্তা শুধু শহীদ মিনার এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, ঢাকা শহরজুড়েই নিরাপত্তা ্যবস্থা থাকবে।
একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি কূটনীতিকেরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন। তাঁদের পর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে শহীদ মিনার।
সাধারণের জন্য পলাশীর মোড়–জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে নির্ধারিত পথে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনো পথ ব্যবহার করা যাবে না। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর বা চানখাঁরপুল দিয়ে বের হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
কেউ যেন ধারালো অস্ত্র, দাহ্য বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন না করেন—এ নির্দেশনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্যদের সুযোগ দিতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশপথে ডাইভারশন থাকবে।
এদিকে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, শাহবাগ, নীলক্ষেত, শহীদুল্লাহ হল, হাইকোর্ট, চানখাঁরপুল, পলাশী ও বকশীবাজার ক্রসিংয়ে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে।