ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সালের ভিডিও বার্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সালের ভিডিও বার্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘নো-কমেন্টস।’ এরপর তিনি বলেন, ‘ভিডিওটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বক্তব্য দিব।’
নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমান প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, অনেকেই চাচ্ছে। আমাদের রিসোর্স সক্ষমতার দিকে তাকাতে হচ্ছে। যাচাইয়ের পরে বিশেষ পুলিশ (এসবি) যখন বলে যে ইয়েস এক্স, ওয়াই, জেডের জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে—তখন এসবি অথবা আমি গানম্যান দিচ্ছি।’
বেশ কিছু ব্যক্তিকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আগামীতেও যদি কেউ ক্যান্ডিডেট বা ও রকম কোনো ব্যক্তি যদি জীবনের নিরাপত্তা বা ঝুঁকির কথা আমাদের বলে, আমরা যাচাই করে দেখে গানম্যান দিতে প্রস্তুত।’
ঢাকার পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, ‘আমি যদি সব লোকবল এই ধরনের কাজেই নিয়োগ করি, তাহলে আমার ভোটকেন্দ্র কে পাহারা দেবে? আমার ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়াটা, তারপরে মাস্তানি-সন্ত্রাসী নানা ধরনের ভোটের যে জটিলতা আছে—এগুলোকে আমাকে প্রায়োরিটি দিতে হচ্ছে। তাই আমরা সবদিকে ব্যালেন্স করে রিসোর্সের দিকে তাকায়ে কতটুকু কী সম্ভব, সেটা করার চেষ্টা করছি।’
শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, ‘আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, পুলিশের সঙ্গে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যাতে আপনাদের (সাংবাদিক) একটা সেতুবন্ধন থাকে। আপনারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু আমার অনুরোধ, সেই ক্ষেত্রে যেন কোনোরূপ বাড়াবাড়ি বা কোনো ধরনের ত্রুটির কারণে আমার সহকর্মীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। গত বছর এ দেশের ইতিহাসে খুবই টার্বুলেন্ট একটি বছর ছিল।’
শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, ‘আগামী ৪০ দিন যদি আমরা আইনশৃঙ্খলা এবং অন্যান্য বিষয় যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি—তাহলে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে। আমাদের কাছে এখন টপ প্রায়োরিটি জাতীয় নির্বাচন। জানুয়ারি মাসের ২১ বা ২২ তারিখের থেকে সম্ভবত ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তখনই সবচেয়ে বড় জটিলতা হওয়ার কথা।’