ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনের প্রথম দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৫০৯টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরপুরের বাগানবাড়ি বস্তির ১১৭টি পরিবার এবং ওলিমিয়ার টেক বস্তির ৩৯২টি পরিবার।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সেখানে প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে যাঁদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয় তাঁরা হলেন—রিনা আক্তার, শারমিন, জান্নাতুল ফেরদৌস, মোছা বিউটি বেগম, নাসরিন আক্তার, শাহেনা বেগম, শাকিলা বেগম, মাহফুজা বেগম, নীপা আক্তার ও পারভীন।
ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে রিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা পরিবারের সদস্য পাঁচজন। আমরা বস্তিতে থাকি। এত তাড়াতাড়ি ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাব তা ভাবি নাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্যারকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের মতো গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।’
শারমিন বলেন, ‘আমি ওলিমিয়ার টেক বস্তিতে থাকি। আমরা ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছি এবং আমাদের টাকাও পৌঁছে গেছে। আমাদের বড় কোনো আশা নাই, আমাদের ছোট ছোট আশা। আমরা চাই আপনারা এভাবেই সব সময় আমাদের পাশে থাকবেন।’
অনুষ্ঠানে উত্তর প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বহু কাঙ্ক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। তিনি যে মঞ্চ থেকে উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন সেখানে তিনি আমাকে ডেকেছিলেন এবং মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন, যাঁরা এখনো পাননি তাঁরা সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারের বয়স মাত্র ১ মাস হয়েছে। তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মাত্র ২১ দিনের মাথায় তিনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করলেন। জনগণকে আমরা কথা দিয়েছিলাম বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করব।’
ঢাকা উত্তরের প্রশাসক বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম চলমান থাকবে। কেউ মন খারাপ করবেন না, যারা টাকা পাননি। আপনার রেজিস্ট্রেশন পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেলে ২৫০০ টাকা প্রতি মাসে আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে।’
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন কষ্ট করেছেন এবং দেশ গড়ার সময়। বিএনপির কর্মীরা জনবান্ধব কাজ শুরু করে দেবেন। আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে। আপনারা যোগাযোগ করলে সব সহযোগিতা পাবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, ‘স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে বিভিন্ন বস্তিতে তথ্য সংগ্রহ যাচাই বাছাই শেষে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। একমাত্র যাঁরা যোগ্য তাঁরাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকারের মাত্র ২১ দিনের মধ্যে আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করতে পেরেছি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে সারা দেশে ১৪টি এবং ঢাকায় ৫টি স্থানে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করব।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দীন। এ সময় আরও ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান।