হোম > জাতীয়

রেলওয়ে: সেবা নিয়ে অভিযোগ বিস্তর, কিন্তু নালিশের খাতা শূন্য

তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা 

ফাইল ছবি

রেলযাত্রা নিয়ে মানুষের ভোগান্তির গল্পের শেষ নেই। সময়মতো ট্রেন না ছাড়া, দরকারি টিকিট না পাওয়া, অপরিচ্ছন্ন আসন, নোংরা প্ল্যাটফর্ম— এমন অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে যাত্রী-মনে। ট্রেনে ও স্টেশনে সেসব অভিযোগ জানানোর জন্য রয়েছে বড় আকারের রুলটানা খাতা, যার সরকারি নাম ‘কমপ্লেইন রেজিস্ট্রার বুক’। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, খাতাগুলো খালি। সেখানে কারও কোনো নালিশ নেই।

দেশের প্রধান রেলস্টেশন কমলাপুরের কর্মকর্তারাও বলছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করলেও ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত স্টেশনে রাখা উন্মুক্ত খাতায় কেউ কোনো অভিযোগ লেখেননি। এ সময়ে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনের গার্ডরুমেও খাতা রাখা ছিল, কিন্তু সেখানেও কোনো নালিশ জমা হয়নি।

তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এত বিড়ম্বনার পরও কারও কোনো নালিশ নেই কেন? সাধারণ যাত্রীরা কি ধরে নিয়েছেন, এ দেশে অভিযোগ করে কোনো লাভ হয় না? আজকের পত্রিকার পক্ষ থেকে সে প্রশ্ন করা হয়েছিল কয়েক যাত্রী এবং রেলের কর্মকর্তাকে। তাঁরা অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন জবাব দিয়েছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বললেন, ‘এখন অভিযোগ আসে হটলাইন বা ফেসবুকে। আর স্টেশনে তো মানুষের অনেক তাড়াহুড়া থাকে, লিখবে কখন?’

রেলওয়ে সূত্র বলছে, রেলের হটলাইন ১৩১ নম্বরে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে যত ফোনকল এসেছে, তার ৪১.৪৮ শতাংশ ছিল ট্রেনের অবস্থান জানার। ৩৬.১৪ শতাংশ ছিল অনলাইনে টিকিট রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত এবং ৮ শতাংশ কল ছিল টিকিট বাতিলের প্রক্রিয়া জানতে চাওয়া। এ সময়ে ওয়েবসাইটে ২৫৮টি অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ১০৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে। অবশ্য ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর পর তা এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে।

ঢাকা-সিলেট রুটের জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী শরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল রেলের খাতায় লিখিত অভিযোগ না জানানোর কারণ নিয়ে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ তো আছে, কিন্তু অভিযোগ লেখার খাতা থাকে ট্রেনের একেবারে পেছনে গার্ডরুমে; কে যায় সেখানে? আর অভিযোগ করলেই কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে?’

চট্টগ্রাম থেকে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেসের যাত্রী আয়েশা আক্তারের কাছেও একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বললেন, ‘গার্ডকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া যায়, এটা তো জানতামই না।’

কমলাপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রেনে ও স্টেশনে যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ আছে। তা প্ল্যাটফর্মে মাইকিং করে ও সাইনবোর্ডে জানানো হয়। এরপরও কেউ অভিযোগ লিখতে চান না।

গত বুধবার দুপুরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টারের কক্ষে গিয়ে দেখা গেল, এক যাত্রী সরাসরি মাস্টারের কাছে এসে অভিযোগ করছেন, তাঁকে এসি যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত অপেক্ষা কক্ষের টয়লেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। তবে স্টেশনমাস্টার বিষয়টি শুনে সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে দেন।

জানতে চাইলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘রেলে যাত্রীসেবার মান এবং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের বিস্তর অভিযোগ আছে। কিন্তু তাঁরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিতে চান না। যাত্রীরা মনে করেন, এসব দিয়ে কোনো কাজ হবে না, খালি খালি ঝামেলা বাড়িয়ে লাভ কী?’

জিয়াউর রহমানের আদর্শে দেশ গঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

শহীদ জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শাহাদাতবার্ষিকীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বিএনপি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাতারাতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: পরিবেশমন্ত্রী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

রাজধানীর বর্জ্য অপসারণে অবহেলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

কোরবানির পশুর লাথি-গুঁতায় ও অস্ত্রের আঘাতে সারা দেশে আহত দুই সহস্রাধিক, নিহত ৩

রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, নিজেই চালালেন গাড়ি

পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ বিশিষ্টজনদের