গত ১৫ বছরে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় দলীয় পরিচয়ে বা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করে যেগুলো অবৈধ হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে অস্ত্র জব্দ করা হবে।
আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বৈধ অস্ত্রধারীদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু এখনো প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র জমা পড়েনি। সেগুলোও চিহ্নিত করে উদ্ধার করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
পুলিশে শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবলকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে।
ভুয়া মামলার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি হয়রানিমূলক মামলা করেছেন। এসব মামলায় সমাজের সুনামধন্য ব্যক্তি ও বড় ব্যবসায়ীদের নাম জড়ানো হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথার্থতা নেই। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন এবং যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য এসপিরা যে ‘প্রটোকল’ সুবিধা দিতেন, তা বন্ধ করা হবে। বিধির বাইরে কেউ অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন না।
২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৭৫০ জন এসআই ও সার্জেন্টের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁদের চাকরি পুনর্বহালের কথা থাকলেও ফাইল আটকে ছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সারসংক্ষেপ আদালতে পাঠানো হবে এবং তাঁরা চাকরি ফিরে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।