হোম > জাতীয়

দলগুলোর ‘অফলাইন’ প্রচারে ব্যয় নির্ধারিত সীমার ৩০০ শতাংশের বেশি: টিআইবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আচরণবিধি মানার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তা রক্ষা হয়নি বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই প্রচারে ব্যয়ের সীমা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, প্রার্থীদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। ছোটখাটো শোডাউন, যানবাহনসহ মিছিল, মশাল মিছিল, প্রতিপক্ষের পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়া, অতিরিক্ত সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন দাখিল—এ ধরনের বিভিন্ন অনিয়ম ঘটেছে। অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই প্রচারে ব্যাপক লঙ্ঘন হয়েছে এবং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সব অনিয়ম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই প্রচারে ব্যয়ের সীমা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে লঙ্ঘনের মাত্রা সর্বাধিক।

টিআইবি জানিয়েছে, অফলাইন প্রচার ব্যয়ে নির্ধারিত সীমার তুলনায় ১৯ শতাংশ থেকে ৩২৮ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বোচ্চ লঙ্ঘন বিএনপি (৩২৭.৫ শতাংশ), স্বতন্ত্র (৩১৫.২ শতাংশ), জামায়াত (১৫৯.১ শতাংশ), জাতীয় পার্টি (১২৮.৬ শতাংশ) ও এনসিপি (১৯ শতাংশ) প্রার্থীদের ক্ষেত্রে।

নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের মধ্যে প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ করেছে টিআইবি। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অসহযোগিতার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, সার্বিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হলেও আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা পুরোপুরি সফল হয়নি। কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন হলেও ‘বিজয়ী হতেই হবে’ সংস্কৃতি এখনো রাজনীতিতে বিদ্যমান।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্বাচনের শুরুতে সুস্থ প্রতিযোগিতার কিছু উপাদান থাকলেও ভোট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়। ‘বিজয়ী হতেই হবে’ মানসিকতা নির্বাচনী আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে বিরোধী অবস্থান ও নির্বাচনবিরোধী তৎপরতার প্রভাব বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কারণে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অসহিষ্ণুতার ঘটনাও দেখা গেছে।

সংস্থাটি বলছে, এবারের নির্বাচনে অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্ম এবং পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব স্পষ্ট ছিল। কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতান্ত্রিক মনোভাবও সুস্থ প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা ও অস্থিরতা কাজ করেছে, যার প্রভাব ভোটার উপস্থিতিতেও পড়েছে। ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। বৈশ্বিক মানদণ্ডে তা উল্লেখযোগ্য হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশার তুলনায় কম। প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন, যার পেছনে আস্থার ঘাটতি অন্যতম কারণ বলে মনে করে টিআইবি।

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান, সিইসিকে চিঠি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে: বিদায়ী সংবর্ধনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জেনারেল ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের: দ্য হিন্দুকে হুমায়ুন কবির

ড. ইউনূসকে ‘কিছু পরামর্শ’ দিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে বিএনপি

কাল সকাল ১০টায় পর্যায়ক্রমে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ

ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই, তবে হাসিনাকে ফেরত দেওয়া উচিত: দ্য হিন্দুকে ফখরুল

নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৩৭টি বাড়ি: গণপূর্ত উপদেষ্টা

আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন ৯৯ শতাংশ প্রার্থী: টিআইবি

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ