বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় স্থানীয় সরকার প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত সরকারি আমলাদের সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত সবাই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা।
গতকাল রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক যাঁরা:
১. ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) : আবদুস সালাম
অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালামকে ডিএসসিসি-র নতুন প্রশাসক করা হয়েছে। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
২. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) : শফিকুল ইসলাম খান
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম খানকে ডিএনসিসি-র প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তিনি অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
৩. গাজীপুর সিটি করপোরেশন: শওকত হোসেন সরকার
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার এই সিটির দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
৪. নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন: সাখাওয়াত হোসেন খান
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও আলোচিত সাত খুনের মামলার আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রশাসক করা হয়েছে। ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থী ছিলেন। তিনি আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
৫. সিলেট সিটি করপোরেশন: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেটের নতুন প্রশাসক করা হয়েছে। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। তিনি খান মো. রেজা-উন-নবীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
৬. খুলনা সিটি করপোরেশন: নজরুল ইসলাম মঞ্জু
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনার প্রশাসক করা হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে থাকা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক মোখতার আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’- এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) অনুযায়ী এই নিয়োগ প্রদান করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক মেয়রদের সরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর এখন পুনরায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এসব পদে বসানো হলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ নির্বাচনের কথা বললেও, এর আগেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশাসকরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।