ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আচরণিবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটলে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ জমা দিতে বলেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আজ সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব এ কথা বলেন।
সচিব বলেন, ‘আপনাদের মনে একটা প্রশ্নই থাকতে পারে, আমরা কি কোনো কাজ করছি না? আসলে এটা দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু যদি স্থানীয়ভাবে যেমন দুইটা ঘটনা বলি।...বিভিন্ন জায়গায় যে সমস্ত আচরণ বিধি ভঙ্গ হচ্ছে আমি আবারও সবিনয় বলছি যে আপনারা আপনার ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও রিটার্নিং অফিসার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আছে তাদের কাছে বলেন, আমাদেরকে কপিতে রাখেন, আমরা এটাকে ফলো করতে পারি।’
আখতার আহমেদ বলেন, অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। আছে বলেই তো অভিযোগ করতে পারছেন, যদি না থাকতো এটা কি হতো?
নির্বাচন কমিশনে না এসে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সচিব বলেন, ‘আবারও বলছি, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা জানান, জানিয়ে আমাদের কপি দেন। আমি তা অনুসরণ করব।’
ভোটের প্রচারে আচরণবিধি প্রতিপালনে সবার সহযোগিতা চান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিশন অবশ্যই নির্ভার না। আমি আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে বলছি যে আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়টা ৩০০ আসনে ৩০০ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডুজিকেশন কমিটি আছে, তাদের বলেন, রিটার্নিং অফিসারের কাছে বলেন, আমাদের একটি কপি দেন। আমরা এখান থেকে এই জিনিসটাকে ফলোআপ করব।’
ইতিমধ্যে ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টার নজরে আসায় রিটার্নিং অফিসারদের তা সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ইসি সচিব।
কূটনীতিকদের ব্রিফিং সম্পর্কে সচিব জানান, গতকাল রোববার সংসদ ও গণভোট নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফিং করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে একটা ব্রিফিং করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধান মিলিয়ে ৪১ জন প্রতিনিধি ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রতিনিধি ছিলেন।
আখতার আহমেদ আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে, পাশাপাশি কূটনীতিকদেরও জানার বিষয় ছিল। উনারা মূলত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, প্রথাগতভাবে আমরা কি কাজ করছি, এটাকে আমরা ব্রিফ করি। কিন্তু ওনাদের কৌতূহল ছিল সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং কমান্ড স্ট্রাকচার নিয়ে, ভোটের ফল দিতে কতক্ষণ লাগবে তা নিয়ে।’
ইসি সচিব জানান, সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট সম্পর্কে স্পেসিফিক্যালি জানানো হয়েছে; পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং র্যাব, আনসারের সংখ্যাগত হিসাবগুলো এবং কতজন কে থাকবেন এগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে। এবার ভোটকেন্দ্রে ২৫-৩০ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে পুলিশের।
আখতার আহমেদ আরও বলেন, ‘তাঁরা (কূটনীতিক) জানতে চেয়েছেন, ভোটের রেজাল্ট কতক্ষণে হতে পারে? আমরা বলেছি যে, রেজাল্ট আমাদের হিসাব মতে এটা কেন্দ্রের রেজাল্ট গ্রহণ সময় মতোই হয়ে যাবে। তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা বা চার ঘণ্টা। ডিপেন্ডিং অন দ্য নাম্বার অব ভোট কাস্টেড। কিন্তু আপনার যে সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রবাসীদের ভোটের যে কেন্দ্রগুলো সেখানে আপনার গণনার সময় বেশি লাগবে।’
কারণ তুলে ধরে সচিব জানান, দুইটা ব্যালট পেপার একটা প্রবাসীদের জন্য এবং একটা দেশের অভ্যন্তরে যে ব্যালট পেপারটা ব্যবহার করা হয়েছে এটার ভিন্নতা। সেই কারণে এবং প্রবাসীদের কাছে যে ব্যালট পেপারটা দেওয়া হয়েছে সেটা। এ ফোর সাইজের দুই পার্টে দুই পাশেই আছে। কাজেই সিম্বলকে স্ক্যান করতে হবে।
দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করাদের কাছে ব্যালট দেওয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান ইসি সচিব।