পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা শেষ করব। এর মধ্যে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি রয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোনো এলাকায় কোন খালটি বেশি অগ্রাধিকার পাবে, কোন খালটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ—দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে জিরো টলারেন্সে সততার সঙ্গে কীভাবে কাজগুলো করা যায়, সেসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
নদী দখল ও দূষণ নিয়ে এক প্রশ্নে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন দেশে খাল খনন কর্মসূচি ছিল না। খাল খনন প্রক্রিয়া নতুনভাবে শুরু করেছি। খাল যেটা প্রবাহিত হচ্ছে, সেটা যখন আবার নতুন করে কাটা হবে, তখন এর মধ্যে যারা অবৈধ দখলদার, তারা এখান থেকে আস্তে আস্তে সরে যাবেন। অন্যরা এসে খাল দখল প্রক্রিয়ার মধ্যে সংযুক্ত হয়ে যাবেন, সেই সুযোগ নাই। এরপরে যদি কেউ তা করেন, আইনগতভাবে ডিসিরা তা মোকাবিলা করবেন।’
খাল দখল করে নির্মিত স্থাপনাগুলো নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘খালের গতি, খালের প্রবাহ ঠিক রেখে যখন আমরা কাজ করব, ওর মধ্যে যদি কোনো দোকান পড়ে, সে দোকান ভেঙে ফেলব। এর মধ্যে যদি কোনো মার্কেট কেউ গড়ে তোলে অথবা মাছ চাষ করার জন্য কেউ যদি ঘেরাও করে খালের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, ডিসিদের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টরা আইনগতভাবে কাজ করে সমাধান করে দেবেন। আমরা জনগণের স্বার্থ দেখেই এসব কাজ করব, এ বিষয়ে ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
মেশিনের পাশাপাশি খাল খননকাজে মানুষকেও যুক্ত করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতে কর্মসংস্থান হবে। খালের পাড়ে যে মাটিগুলো উঠে আসবে, কোনো প্রতিষ্ঠান এসব মাটি নিতে চাইলে ডিসির নেতৃত্বে কমিটির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপরেও মাটি থেকে গেলে তা নিলামে বিক্রি করা হবে।