হোম > জাতীয়

জুলাই বিপ্লবওয়ালারা ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন সংবিধান চাইলে, সেটাই হতো: অ্যাটর্নি জেনারেল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ফাইল ছবি

জুলাই অভ্যুত্থানের বিজয়ী শক্তিরা ঐক্যবদ্ধভাবে বাহাত্তরের সংবিধান বাদ দিয়ে নতুন সংবিধান রচনা করতে চাইলে, বাস্তবে সেটাই ঘটত বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিতে আজ বুধবার এই অভিমত দেন রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা।

পরে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই জুলাই বিপ্লবওয়ালারা, বিজয়ী শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধভাব বলত যে, আমরা বাহাত্তরের সংবিধান চাই না, আমরা নতুন সংবিধান রচনা করতে চাই ঐক্যবদ্ধভাবে, তাহলে সেটাই হতো সংবিধান।’

‘বাহাত্তরের সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া’ সংক্রান্ত তাঁর এক মন্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অ্যাজ অ্যা হোল (বাহাত্তরের সংবিধান) ছুড়ে ফেলতে চাইনি। এই জায়গাটা মিসকোট আপনারা করবেন না। আমি বলেছি যে, বিজয়ী শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে যদি চাইতো, তাদের মধ্যে বিভেদ থাকলে হবে না, ঐক্যবদ্ধভাবে হতে হবে- এই শব্দটা;।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগে অষ্টম দিনের মতো এ বিষয়ে শুনানি হয়।

এদিন আরও শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আনীক আর হক এবং বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না। খায়রুল হক সাহেবরা হুকুম নড়ায়ে দিয়েছেন সংক্ষিপ্ত রায় এবং পূর্ণাঙ্গ রায়ের মধ্য দিয়ে; যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড। সংবিধান একটা অরগানিক ডকুমেন্ট। এটা বিভিন্ন রকমভাবে উপস্থাপিত হয়। কোরআন কিংবা বাইবেল—কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না। সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য। আজকে সংবিধানের অ্যামেন্ডমেন্টে (সংশোধন) যদি বলে দেন, তত্ত্বাবধায়কে ফিরে গেলাম, সেটাই যে অ্যাবসোলিউট (যথাযথ) হবে—তাও না। এটাও জনগণের চাহিদা অনুসারে হবে। জনগণ যদি মনে করে, এটাতে তার ভোটাধিকার নিশ্চিত হচ্ছে না, জনগণ ইচ্ছা করলে এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে পারবে।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা মনে করি, ওই (তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল) রায় থাকা উচিত না। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রায়টা লেখা হয়েছে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য। এই রায় দুটি গ্রাউন্ডে বাতিল হবে। সাতজন মিলে ঘোষণা করলেন, আগামী দুটি সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে। সেখানে উনারা ডেভিয়েট (বিচ্যুত) করে পূর্ণাঙ্গ যে রায় দিলেন, তা ওপেন ঘোষণা রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঘোষিত রায় পরিবর্তন করার জন্য রিভিউ করতে হবে। রিভিউ যেকোনো পক্ষ করতে পারে। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও করতে পারেন। খায়রুল হক সেই পথে না গিয়ে যে পথে হেঁটেছেন, তা আইনের ব্যত্যয়। রিভিউ না করে উনি রায় পরিবর্তন করেছেন। এটা দণ্ডবিধির ২১৯ ধারা অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উনি পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে জানতেন, এ ধরনের পরিবর্তন করা আইনে সম্ভব নয়। তারপরও উনি সেটা করেছেন।’

আসাদুজ্জামান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাংলাদেশে আসার পরে যেভাবে দেশের গণতন্ত্র উন্নত হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপের পরে সেই সুযোগ হয়নি। এই ব্যবস্থা বাতিল করার পর হত্যা, গুম, রাতের বেলায় ভোট দেওয়া, মিথ্যা মামলায় মানুষকে কারাগারে পাঠানো—এ ধরনের রাজনীতি শুরু হয়। ৭০ লাখের মতো মানুষ গায়েবি মামলায় আসামি হয়। সেই কারণে এটা ২১৯ ধারার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কী হবে, যা বললেন আলী রীয়াজ

নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করল এই নির্বাচন: ইভারস ইজাবস

মন্ত্রিসভা গঠন ও শপথ প্রক্রিয়া কেমন, কে শপথ পড়াবেন

নাহিদ ইসলামকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা

‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরতে চায় না: আলী রীয়াজ

১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবার শপথ সম্পন্ন হবে: প্রেস সচিব

নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া, কী বলা আছে সংবিধানে

কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুমসহ জামানত হারালেন ৩৪ প্রার্থী

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

নির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্য ও গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ