নতুন বছর নতুন আঙ্গিকে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের স্থান নির্ধারণ ও তালিকা করবেন ভ্রমণপ্রেমীরা। তার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে অনেকের। তবে বেরিয়ে পড়ার আগে কিছু পরিবর্তনের কথা জেনে নিলে প্রস্তুতিটা আরও গোছানো হবে। আমরা জানি, পৃথিবী এখন আর দুই বছর আগের মতো নেই। বিভিন্ন দেশে নানা মেরুকরণ চলছে। সেই সঙ্গে একদিকে চলছে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক উত্তেজনা; অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে চলছে ভ্রমণ থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিপুল আয়োজন। সে জন্য নতুন করে ভিসা শিথিলসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালু করেছে তারা। ফলে নতুন বছরে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে।
ভিসাব্যবস্থা, বর্ডার কন্ট্রোল, বায়োমেট্রিকস তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল ট্রাভেল অনুমতির মতো নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে এই পরিবর্তনগুলো ভ্রমণকারীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
ইউরোপে শুরু হচ্ছে বায়োমেট্রিক যুগ
ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ বা ভ্রমণের নিয়ম এ বছরে বদলে যাবে। শেনজেনভুক্ত দেশগুলো এখন এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম বা ইইএস চালু করছে। এই ব্যবস্থায় বিদেশি ভ্রমণকারীর পাসপোর্টে নিয়মিত সিল দেওয়ার বদলে সীমান্তে প্রথমবার প্রবেশের সময় আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি নেওয়া হতে পারে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত যাচাই হবে কোন পর্যটক শেনজেনভুক্ত দেশে যেতে পারবে, আর কে যেতে পারবে না। শেনজেন দেশগুলো ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করছে। ফলে ২০২৬ সালজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দর ও স্থলসীমান্তে এই নতুন পদ্ধতির অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হবে পর্যটকদের।
যুক্তরাজ্য: অগ্রিম অনুমতি নিয়ে যাত্রা
যুক্তরাজ্যেও এ বছর থেকে ভিসামুক্ত অনেক ভ্রমণকারীর জন্য নতুন বাধা যোগ হচ্ছে। বসছে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ। সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ভিসামুক্ত ভ্রমণকারীদের কাছে ইটিএ না থাকলে তারা বিমানেই উঠতে পারবে না। যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইটিএ একটি বাধ্যতামূলক ডিজিটাল অনুমোদন। এর আবেদন ফি ধরা হয়েছে ১৬ পাউন্ড।
যুক্তরাষ্ট্র: নতুন নিষেধাজ্ঞা তালিকা, কর বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্র এ বছর শুরু থেকে কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রবেশনীতি কঠোর করেছে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় ‘বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত ও নিয়ন্ত্রণ’ সংক্রান্ত প্রেসিডেনশিয়াল ঘোষণা দেওয়া হয় ২০২৫ সালে। এ নীতির বাস্তব প্রয়োগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির ভ্রমণ কর নিয়েও উদ্বেগ আছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরতে গেলে বাড়তি টাকা গুনতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্য: এক ভিসায় একাধিক দেশ
উপসাগরীয় অঞ্চলে জিসিসি দেশগুলোর লক্ষ্য হলো এক ভিসায় একাধিক উপসাগরীয় দেশে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করা। ২০২৫ সালে এই পরিকল্পনা করা হলেও শোনা যাচ্ছে, ২০২৬ সাল থেকে এ সুবিধা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ বাস্তবে পর্যটকেরা এক ভিসার সুবিধা পাবে, তা নির্ভর করছে দেশগুলোর প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা-সমন্বয়ের গতির ওপর।
এশিয়া: কঠোর যাচাই ও ব্যয়বৃদ্ধি
এশিয়ার কয়েকটি দেশে ২০২৬ সালে অভিবাসন যাচাই আরও কড়াকড়ি হচ্ছে। সিঙ্গাপুরের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ‘নো-বোর্ডিং নির্দেশনা’ দিতে পারবে। অর্থাৎ যেসব পর্যটক কোনো না কোনো কারণে দেশটিতে নিষিদ্ধ বা অযোগ্য কিংবা যাদের কাগজপত্র প্রবেশ-শর্ত পূরণ করে না, তাদের ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসকে আগেই বোর্ডিং না করানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
জাপানে এ বছর ভ্রমণ-ব্যয় বাড়ার দুটি বড় কারণ সামনে এসেছে। প্রথমত, জাপানের আন্তর্জাতিক পর্যটক কর। এটি ১ হাজার ইয়েন থেকে ৩ হাজার ইয়েনে বাড়ানোর চিন্তা করেছে জাপান সরকার। দ্বিতীয়ত, জাপান ন্যাশনাল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ট্যাক্স ফ্রি কেনাকাটার পদ্ধতি বদলাবে।
সূত্র: ট্রাভেল ইউরোপ, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ও আইসিএ