সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হুট করে দেখলেন মুখটা বেশ ফুলে আছে। আমাদের অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়। সাধারণত পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার বা মানসিক চাপের কারণে এমনটি হতে পারে। তবে মুখ ফোলা বা 'ফেসিয়াল এডিমা’ কখনো কখনো বড় কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। আজকের আয়োজনে থাকছে মুখ ফোলার সাধারণ কারণ, লক্ষণ এবং ঘরে বসেই এর থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ কিছু উপায়।
মুখ ফোলার লক্ষণ
মুখ ফুলে গেলে কেবল চেহারা গোলগাল দেখায় না, এর সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে:
মুখ ফোলার কিছু কারণ
ত্রুটিপূর্ণ জীবনধারা
রাতে পর্যাপ্ত না ঘুমানো, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা উপুড় হয়ে ঘুমানোর কারণে টিস্যুতে তরল জমা হয়ে সকালে মুখ ফুলে থাকে। এ ছাড়া আগের রাতে অতিরিক্ত মদ্যপান বা ধূমপানের প্রভাব পরদিন সকালে মুখে স্পষ্ট ধরা পড়ে।
অ্যালার্জি
ধুলাবালু, নির্দিষ্ট কোনো খাবার, পোকামাকড়ের কামড় কিংবা ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় অনেকের মুখ ও চোখ দ্রুত ফুলে যায়। একে 'অ্যানাফিল্যাক্সিস' বলা হয়, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে বিপজ্জনক হতে পারে।
সাইনাস ও দাঁতের সংক্রমণ
সাইনাসের ইনফেকশন হলে চোখের চারপাশ ও কপালে ভারী ভাব তৈরি হয়। একইভাবে দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন হলে চোয়ালের এক পাশ বা পুরো মুখ ফুলে যেতে পারে।
আঘাত
মুখে কোনো কারণে আঘাত পেলে শরীর সেই স্থানকে সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন কেমিক্যাল নিঃসরণ করে; যার ফলে আক্রান্ত স্থানটি ফুলে যায় এবং কালশিটে পড়ে।
গুরুতর শারীরিক অবস্থা
শরীরের প্রধান শিরাগুলোতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে (যেমন সুপিরিয়র ভেনা কাভা সিনড্রোম) ঘাড় ও মুখ ফুলে যেতে পারে। এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি।
দ্রুত আরাম পেতে কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার
যদি মুখ ফোলা খুব গুরুতর না হয়, তবে নিচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো ভালো কাজ করে:
ঠান্ডা পানির ঝাপটা: সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখেমুখে বারবার ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিলে রক্ত সঞ্চালন সচল হয়ে ফোলা ভাব দ্রুত কমে।
কোল্ড কমপ্রেস বা বরফ থেরাপি: একটি পরিষ্কার নরম কাপড়ে কয়েক টুকরা বরফ পেঁচিয়ে ফোলা স্থানে ১০-১৫ মিনিট চেপে ধরুন। এটি ত্বকের ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করবে।
শসার ব্যবহার: চোখের ওপর বা গালের ফোলা অংশে ঠান্ডা শসার টুকরা দিয়ে রাখুন। শসা ত্বককে শীতল করে এবং অতিরিক্ত পানি শুষে নিতে সাহায্য করে।
ফেসিয়াল ব্যায়াম ও ম্যাসাজ: হালকা হাতে নিচ থেকে ওপরের দিকে মুখ ম্যাসাজ করুন। এতে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ভালো হয় এবং জমে থাকা তরল অপসারিত হয়।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও হাইড্রেটেড থাকা: শরীর ক্লান্ত থাকলে ইনফ্লামেশন বাড়ে, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন ও হাইড্রেটেড থাকুন।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
মুখ ফোলার সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ, মাথাঘোরা এবং তীব্র ব্যথা থাকে, তবে কোনো ঘরোয়া প্রতিকারের আশায় না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তীব্র অ্যালার্জির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা জরুরি।
প্রতিরোধের কিছু টিপস
সূত্র: স্টাইলক্রেজ ও অন্যান্য