বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আর চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। বাংলাদেশের জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর মধ্যে এটি একটি। দৃষ্টিনন্দন চা-বাগান, নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ, হ্রদ, আঁকাবাঁকা সড়ক, বন, উঁচু-নিচু পাহাড় ও হাওরসমৃদ্ধ অঞ্চল শ্রীমঙ্গল অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। ঢাকা ও তার আশপাশ থেকে খুব সহজে এক দিনেই শ্রীমঙ্গল ঘুরে দেখে ফিরে আসা যায়।
তাই যে কথা সেই কাজ। ভেবে ফেললাম, আমরা বান্ধবীরা মিলে এক দিনের ট্যুরে শ্রীমঙ্গল যাব। মেয়ে বলে অনেকেই আসলে ভয় পায় ঘোরাঘুরি করতে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, অনেক ট্র্যাভেল গ্রুপ আছে। তাদের মাধ্যমেও যাওয়া যায়। অনেক মেয়ে একসঙ্গে ভ্রমণ করার সুযোগ হয়। এ ছাড়া বন্ধুবান্ধবের গ্রুপ তো আছেই। আমরা অনেক বান্ধবী মিলে এক বৃহস্পতিবার রাতের বাসে রওনা দিলাম। সারা রাত বাসে অনেক মজা হলো। তার পরদিন মানে শুক্রবার ভোরে পৌঁছালাম চায়ের রাজ্যে।
এত অপূর্ব সুন্দর সকাল! ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের হাড় কাঁপানো শীত। ভয়ংকর শীতে আমরা পানসি হোটেলে সকালের নাশতা করে নিলাম গরম-গরম খিচুড়ি আর মুরগি ভুনা দিয়ে। খাওয়াদাওয়া শেষে রিজার্ভ করলাম জিপ। সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও যাওয়া যায়। যেহেতু আমরা সংখ্যায় বেশি ছিলাম তাই জিপ নেওয়া হলো।
প্রথমে চলে গেলাম মাধবপুর লেকে। যেতে সময় লেগেছে প্রায় এক ঘণ্টা। চারপাশে চা-বাগান দেখতে দেখতে মাধবপুর লেকে চলে গেলাম। কিছুটা হেঁটে চা-বাগানে ঢাকা সবুজ পাহাড়ঘেরা অপূর্ব মাধবপুর লেক। এত সুন্দর জায়গা, দেখেই মন ভালো হয়ে যায়। মাধবপুর লেকে ঘণ্টাখানেক সময় কাটিয়ে চলে গেলাম লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে।
লাউয়াছড়ায় ছাত্রছাত্রীদের আইডি কার্ড দেখালে ২০ টাকায় টিকিট পাওয়া যায়। আর না হলে ৫০ টাকা টিকিট। এই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে একটা রেললাইন আছে। সেখানে প্রায় ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ আর প্রাণী আছে। লাউয়াছড়ায় দেশের জনপ্রিয় লেখক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ সিনেমার শুটিং হয়েছিল। এই তথ্য বিশাল বড় সাইনবোর্ডে লিখে রাখা হয়েছে। ঘোরাঘুরি করে অনেকটা সময় পার করে দিলাম আমরা। দুপুরের খাবার খাওয়া হলো সেখানকার স্থানীয় এক হোটেলে।
ফারহীমা ফারুক তূর্ণা এমবিএ-এর পাট চুকিয়ে সম্প্রতি অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছেন।
ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে বেড়ানো ছাড়াও ভুটান ও ভারতেও ভ্রমণ করেছেন।
তারপর বিকেলে দল বেঁধে গেলাম লাল টিলা পাহাড় দেখতে। পাহাড়ের ওপরে একটা মন্দির আছে। গাইড আছে। গাইড পুরোটা ঘুরে দেখাবে। সন্ধ্যা নামার আগেই আমরা টিলা থেকে নেমে গেলাম। শ্রীমঙ্গল এসেছি আর সাত রঙের চা খাব না, সেটা হয়? তাই দল বেঁধে চলে গেলাম সাত রঙের চা খেতে, আদি নীলকণ্ঠ টি কেবিনে। সাত রঙের চা-র সঙ্গে আরও অনেক ধরনের চা পাওয়া যায়। অভিজ্ঞতার জন্য সবাই চা পান করে দেখলাম তার স্বাদ কেমন। এ চা বানানোর পদ্ধতি আলাদা। চায়ের দাম ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকার মধ্যে। চায়ের দোকানের কাছাকাছি মণিপুরী পল্লি থেকে শাড়ি, শাল কিনলাম, চা-পাতা কিনলাম প্রায় সবাই। তারপর রাতের খাবার খেয়ে আবার বাসে উঠে শনিবার ভোরবেলা ঢাকায় পৌঁছে যাই।
যাঁদের হাতে সময় কম তাঁরা এভাবে ঘুরে আসতে পারেন খুব সহজেই। সময় অনুযায়ী ঘুরলে এক দিনে অনেক জায়গায় যাওয়া যায়। এ সবকিছুই আসলে নির্ভর করবে কত সময় নিয়ে এসেছেন, তার ওপর।
যেভাবে যাবেন
দেশের উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গ থেকে শ্রীমঙ্গল যেতে হবে ঢাকা হয়ে। কলাবাগান, ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ বাস কাউন্টার থেকে বাস ছাড়ে সিলেট ও শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে। সরাসরি ঢাকা থেকে কিংবা ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়।
শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের জন্য খুব বেশি খরচ হয় না। ঢাকা থেকে গেলে জনপ্রতি দুই হাজার টাকায় এক দিনে ঘুরে আসা যায় শ্রীমঙ্গল থেকে। তবে সেখানে বা সিলেটে থাকতে গেলে কিছুটা বেশি খরচ হবে। সিলেট কিংবা শ্রীমঙ্গলে থাকার ভালো ব্যবস্থা আছে। তবে রিসোর্টে থাকতে গেলে আগে থেকে খোঁজখবর নিয়ে বুকিং দিয়ে যাওয়াই ভালো।
সতর্কতা