উৎসবের বড় অনুষঙ্গ খাবার। কোরবানি ঈদে মাংসের পদ বেশি থাকে। বাড়িতে গিন্নি, মা, দাদি তৈরি করেন খাবারের নানা পদ। জীবনাচরণের সব ক্ষেত্রে যেমন পরিমিতি বোধ চাই, তেমনি খাবারের বেলায়ও সেটি প্রয়োজন। আমাদের রয়ে–সয়ে খেতে হবে। ঈদে মাংসের অনেক মুখরোচক পদ তৈরি হয়। সেগুলোতে আবার অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি পরিমাণে তেল, চর্বি, লবণ, থাকে।
রান্নার করা খাবারের ঘ্রাণে আরও বেশি করে মাংস খেতে মন চায়। যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ নেই তাঁরা দুই–এক দিন ভারী খাবার খেতে পারেন। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ থাকলে অনেক বুঝেশুনে খেতে হবে। এসব রোগে আক্রান্ত মানুষ কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে খেতে থাকলে স্ত্রী, মা, বোনসহ বাড়ির অন্য সদস্যরা মানা করতে পারেন।
টেবিলে থরে থরে খাবার সাজানো দেখলেই সব খেতে হবে, তা নয়। বদহজম বা বুক জ্বালাপোড়া এড়াতে কম করে খাবেন। এতে পেট ও শরীর সুস্থ থাকবে। খাবার খাওয়াতে নিষেধ নেই। তবে বাহারি অনেক পদ থাকলে প্রতিটি অল্প করে খাবেন। ছোট প্লেট নেবেন আর বেশি সময় নিয়ে খাবেন। গোগ্রাসে গিলে ফেললে এমনিতে হবে বদহজম।
সকালে খান হালকা খাবার। সেমাই, পায়েস, ফলের জুস (ঘরে বানানো) আর বাদাম, ঘরে পাতা টক দই, ডাবের পানিও খেতে পারেন। যাঁদের কিডনি সমস্যা তাঁদের প্রোটিন বেশি খেলে সমস্যা হয়ে থাকে। ইউরিক অ্যাসিড বেশি যাঁদের তাঁদেরও একই সমস্যা। হজমশক্তি কম থাকলে দুধের তৈরি খাবার না খাওয়াই ভালো।
রান্নায় তেল–চর্বি কম দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করুন। এমনিতে অতিমারি চলছে, বাড়তি ভোগান্তি আর কেন পোহাবেন?
ঈদের সময় অনেক ঘুরে ঘুরে আত্মীয়দের বাসায় খাওয়া হয়। কিন্তু এবার সে সৌজন্য পালন বা আতিথেয়তা পালনে সাবধানতা চাই। স্বাস্থ্যবিধি পালন করে খাওয়া সম্ভব না হলে জীবন রক্ষার জন্য তা না করাই ভালো।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ডাক্তারের বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। ভালো থাকুন, নিরাপদে ঈদ উদ্যাপন করুন।
লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ