চীনে দ্রুত এগোচ্ছে এআই। আর উন্নয়নের সেই পথ ধরে এবার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও নতুন কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। কানসু প্রদেশের রাজধানী লানচৌ শহরের সিনলিয়ানসিন সোশ্যাল ওয়ার্ক সার্ভিসেস সেন্টারের অফিসে কাজ করা কর্মীদের বড় অংশই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাঁরা প্রধানত ডেটা অ্যানোটেশন করেন, অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেলকে শেখাতে প্রয়োজনীয় তথ্য চিহ্নিত ও যাচাই করেন।
ডেটা অ্যানোটেশন এআই-শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ছবি, অডিও, ভিডিও বা লেখা থেকে তথ্য, উচ্চারণ, আবেগ ও প্রসঙ্গ চিহ্নিত করে এই কর্মীরা এআই মডেলের নির্ভুলতা বাড়াতে সাহায্য করেন। ২০২০ সালে চীনের সরকারি পেশা তালিকায় ‘ডেটা অ্যানোটেটর’ যুক্ত হয়। এ কাজ শারীরিক শ্রমের ওপর কম নির্ভরশীল এবং দূর থেকেও করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই কাজে বিশেষ সুবিধা পান। যেমন শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৃষ্টি এবং পর্যবেক্ষণক্ষমতা বেশি হওয়ায় তাঁরা ইমেজ অ্যানোটেশনে দক্ষ হন। চলাচলে সীমাবদ্ধ ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় কি-বোর্ড ও মাউস ব্যবহার করতে সক্ষম।
৩৩ বছর বয়সী ইয়াং চিওয়েনের শৈশবে দুর্ঘটনায় তাঁর পা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এখন তিনি বেইজিংভিত্তিক একটি হাইটেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এআই নিয়ে আগ্রহী ছিলাম। এই কাজ আমাকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ দিয়েছে।’
২৮ বছর বয়সী সু চুনলিনও দীর্ঘ সময় বেকার থাকার পর এআইভিত্তিক কাজে যুক্ত হয়ে মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার ইউয়ান আয় করছেন। চীনের বিভিন্ন প্রদেশে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে।
তবে এআইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ডেটা অ্যানোটেশনের কাজও বদলাচ্ছে। সহজ ও পুনরাবৃত্ত কাজের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এখন এআই নিজেই করতে পারে। ফলে মানুষের ভূমিকা এখন জটিল, নতুন ও বিশেষায়িত কাজে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খাত ধীরে ধীরে শ্রমনির্ভরতা থেকে প্রযুক্তিনির্ভরতায় যাচ্ছে। তাই নির্ভুলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও শেখার আগ্রহই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সিএমজি, সিনহুয়া