যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির প্রমোদভ্রমণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। গতকাল শুক্রবার বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস দাবি করেছেন, এক বন্ধুর টাকায় তিনি বিলাসবহুল অবকাশ যাপন করেছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতির প্রমোদভ্রমণের টাকা দিয়েছেন রিয়েল এস্টেট ম্যাগনেট এবং রিপাবলিকান শুভাকাঙ্ক্ষী (ডোনার) হারলান ক্রো। কয়েক দশক ধরেই তাঁর প্রমোদভ্রমণের ব্যবস্থা করে এসেছেন তিনি। আত্মপক্ষ সমর্থনে এই বিচারপতি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে যোগ দেওয়ার পর প্রথম দিকে তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে বলেছিলেন, ফেডারেল আইনের অধীনে এই ধরনের ‘ব্যক্তিগত আতিথেয়তা’র বিষয়ে আলাদা করে জানানোর প্রয়োজন নেই।
এ নিয়ে এক বিবৃতিতে থমাস বলেন, তিনি সব সময়ই আইন মেনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের নির্দেশিকা মেনে চলার চেষ্টা করেছেন।
নিউজ পোর্টাল প্রোপাবলিকা গত বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল আইনে উপহারের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক হারলান ক্রোর কাছ থেকে ব্যয়বহুল ভ্রমণের সুবিধা নিয়েছেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা এই অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছেন।
বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস বলেছেন, ‘(সুপ্রিম) কোর্টে আমার মেয়াদের শুরুতে, আমি আমার সহকর্মীদের এবং বিচার বিভাগের অন্যদের কাছ থেকে নির্দেশনা চেয়েছিলাম এবং পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত বন্ধুদের কাছ থেকে এ ধরনের ব্যক্তিগত আতিথেয়তা গ্রহণ করা, যাদের আদালতের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, এটি রিপোর্টযোগ্য নয়।’
তবে ফেডারেল বিচার বিভাগের জন্য আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করেছে জুডিশিয়াল কনফারেন্স। এ বিষয়টি উদ্ধৃত করে থমাস বলেন, ‘অবশ্যই, ভবিষ্যতে এই নির্দেশিকা অনুসরণ করা আমার উদ্দেশ্য।’
বিচারকদের জন্য ভ্রমণ এবং বিভিন্ন উপহারের তথ্য প্রকাশের দুর্বল আইন নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। বর্তমান আইন অনুযায়ী, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এবং ফেডারেল বিচারকদের অবশ্যই কোনো আইন প্রণেতা এবং বিচারিক স্বচ্ছতার প্রবক্তা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অনুরোধে বিনা খরচে ভ্রমণ, খাবার বা উপহার গ্রহণের আরও বিশদ তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
বিবৃতিতে ক্ল্যারেন্স থমাস বলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের অন্যতম প্রিয় বন্ধু হারলান এবং ক্যাথি ক্রোর আতিথেয়তা গ্রহণ করে আসছেন। এই দম্পতির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কয়েক দশকের। তা ছাড়া হারলান তাঁকে আইনি বা রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে কখনো প্রভাবিত করার চেষ্টাও করেননি।
উল্লেখ্য, ক্ল্যারেন্স থমাসকে ফেডারেল বিচারপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচডব্লিউ বুশ।