ছোটবেলায় অপহরণের শিকার হওয়ার ১৪ বছর পর ফেসবুকে নিজের মাকে দেখেন জ্যাকুলিন হার্নান্দেজ (১৯)। এরপর মাকে মেসেজ পাঠিয়ে নিজেকে তাঁর কন্যা বলে দাবি করেন। এরপর মা এনজেলিকা ভেন্সেস স্যালগ্যাডো পুলিশের সহায়তায় তাঁর কন্যার পরিচয় নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে মা ও মেয়ে একত্রিত হয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্তে তাঁরা মিলিত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লারমন্ট পুলিশ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, জ্যাকুলিন চলতি মাসের শুরুর দিকে তাঁর মাকে ফেসবুকে দেখে মেসেজ দেন। এ সময় তিনি মেক্সিকোতে আছেন বলে তাঁর মাকে জানান। এ ছাড়া গত ২ সেপ্টেম্বর একটি মেয়ে স্যালগ্যাডোকে ফেসবুকে মেসেজ দিয়ে নিজেকে তাঁর হারিয়ে যাওয়া মেয়ে বলে দাবি করেন। ১০ সেপ্টেম্বর তাঁকে টেক্সাস ও মেক্সিকোর সীমান্তে দেখা করার জন্যও অনুরোধ করেন।
এই তথ্যের সূত্র ধরে, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের তদন্ত কর্মকর্তারা জ্যাকুলিনকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিতের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টা তাঁর বিভিন্ন প্রমাণপত্র যাচাই বাছাই এর পর নিশ্চিত হন যে, জ্যাকুলিনই স্যালগ্যাডোর হারিয়ে যাওয়া মেয়ে।
এই বিজ্ঞপ্তিটি ফেসবুকে প্রকাশ করা হলে নেটিজেনরা এই ঘটনাকে অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া মা ও মেয়েকে মিলিত হওয়ার জন্য সহযোগিতা করায় ক্লারমন্ট পুলিশ বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, বিবিসির ২০০৭ সালের ২২ ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যালগ্যাডো অভিযোগ করেন তাঁর স্বামী পাবলো হার্নান্দেজ তাঁর ছয় বছরের মেয়ে জ্যাকুলিনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।