বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন ডটকম গতকাল বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তাদের ৬৪টি বইয়ের দোকান, খেলনা ও গাড়ির পণ্য সরবরাহকারী দোকান বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে পণ্য বিক্রির ওপর দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরীক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
আমাজন জানিয়েছে, তারা গ্রোসারি শপ (মুদি দোকান) ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরকে সম্প্রসারিত করতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে প্রথম বইয়ের দোকান খুলেছিল আমাজন। তারা একটি ‘ফোর স্টার’ কাঠামো দাঁড় করিয়েছিল, যেখানে খেলনা, গৃহস্থালির জিনিসপত্রসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রির ব্যবস্থাও ছিল। তবে বইয়ের চেয়ে গৃহস্থালি পণ্যের গ্রাহক চাহিদা ছিল বেশি।
অনলাইন শপিং ব্যবসার মাধ্যমে আমাজনের যাত্রা শুরু হলেও পরে প্রতিষ্ঠানটি অনেক জায়গায় ‘ফিজিক্যাল স্টোর’ স্থাপন করেছিল। গত তিন মাসে আমাজন রাজস্ব আয় করেছে ১৩৭ বিলিয়ন ডলার, যার ৩ শতাংশ ছিল ফিজিক্যাল স্টোর থেকে পাওয়া রাজস্ব।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মাইকেল প্যাচটার বলেছেন, আমাজন একটি ইন্টারনেট-নির্ভর প্রতিষ্ঠান। তাদের বইয়ের দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি সঠিক। আমাজনের নতুন প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি জুলাই মাসে শীর্ষ পদে চাকরি নেওয়ার পর থেকে খুচরা বিক্রেতার অগণিত ব্যবসা পর্যালোচনা করেছেন। তার পরই সম্ভবত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আমাজন তার ফোর স্টার, পপ-আপ ও বইয়ের দোকানগুলো বিভিন্ন তারিখে বন্ধ করবে এবং গ্রাহকদের এ ব্যাপারে অবহিত করবে। এসব দোকানে যাঁরা চাকরি করতেন, তাঁদের অন্য যেকোনো দোকানে চাকরি পেতে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে আমাজন।