যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর আরোপিত জ্বালানি অবরোধ আংশিক শিথিল করে একটি রুশ তেলবাহী একটি ট্যাংকারকে দেশটিতে পৌঁছানোর অনুমতি দিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটে ভোগা কিউবা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘আনাতোলি কোলোদকিন’ প্রায় ৬.৫ থেকে ৭.৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে সোমবার (৩০ মার্চ) কিউবার মাতানসাস বন্দরে পৌঁছায়। রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি মূলত মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করে দেশটিতে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেওয়া এবং অন্যান্য দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার ফলে কিউবা কার্যত জ্বালানি অবরোধের মুখে পড়ে।
এর ফলে কিউবায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। রাজধানী হাভানাসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জ্বালানির ঘাটতি, খাদ্য পরিবহনে সমস্যা এবং জনসেবায় বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। হাসপাতালগুলোও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি এই তেল সরবরাহে বাধা দিতে চান না। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কিউবার মানুষদের বেঁচে থাকতে হবে। তাই যে দেশই তেল পাঠাতে চায়, তাতে আমার আপত্তি নেই।’
তবে তিনি এও বলেন—এতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বড় কোনো লাভ হবে না। বরং এটি শুধুই সীমিত পরিমাণ সহায়তা, যা কিউবার সংকট সাময়িকভাবে লাঘব করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একদিকে মানবিক বিবেচনার ফল হলেও অন্যদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নীতির সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করে। একই সঙ্গে রাশিয়া-কিউবা সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিতও এতে পাওয়া যাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কিউবার জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি বয়ে আনলেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশটির জ্বালানি সংকট কতটা সমাধান হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।