হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইসরায়েলের চাপেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরান বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানতে পারে—এমন ‘আসন্ন হুমকি’র গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ইরানজুড়ে আগাম হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ক্যাপিটল হিলে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে খোদ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় শিবিরের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, ইসরায়েলের যুদ্ধংদেহী অবস্থানের কারণে আমেরিকাকে একটি অনিচ্ছাকৃত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেসের শীর্ষ আট নেতা বা ‘গ্যাং অব এইট’কে ব্রিফিং করার পর রুবিও বলেন, ‘সেখানে অবশ্যই একটি আসন্ন হুমকি ছিল। আমরা জানতাম যে ইসরায়েল যদি ইরানকে আক্রমণ করে এবং আমাদের বিশ্বাস ছিল তারা করবে, তবে ইরান সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমরা বসে বসে মার খাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে পারি না।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিরক্ষা দপ্তর (বর্তমান যুদ্ধ মন্ত্রণালয়) বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ইসরায়েলি হামলার পর কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থানে থাকলে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতো। চলমান এই সংঘাতে ইতিমধ্যে ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ‘আরও প্রাণহানি ঠেকাতে আমরা রক্ষণাত্মকভাবে, কিন্তু আগাম সক্রিয় হয়ে এই হামলা চালিয়েছি।’

ইসরায়েলের চাপেই কি যুদ্ধে আমেরিকা?

এই অভিযানের খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য জোয়াকিন কাস্ত্রো। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর মন্তব্য প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ইরানকে আক্রমণ করার জেদ ধরে মার্কিন সেনাদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে। আর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নিবৃত্ত না করে উল্টো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।’

একই সুর শোনা গেছে রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘তিনি (রুবিও) সরাসরি বলছেন যে ইসরায়েল আমাদের বাধ্য করায় আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লড়ছি। এর চেয়ে খারাপ কথা আর কিছু হতে পারত না।’

রুবিও দাবি করেন, হামলার আগে থেকেই ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যস্থলের দিকে তাক করে সতর্ক অবস্থানে রেখেছিল। তিনি বলেন, ‘ইরানের লিডারশিপ কম্পাউন্ডে প্রাথমিক হামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর ও দক্ষিণ উভয় প্রান্তের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলো উৎক্ষেপণের জন্য সক্রিয় করা হয়েছিল।’ তবে ইরান ঠিক কোন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছিল, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

কংগ্রেসের ক্ষোভ ও আইনি বিতর্ক

হামলার আগে কংগ্রেসের সব সদস্যকে অবহিত না করায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করছেন। এর জবাবে রুবিও বলেন, ‘৫৩৫ জন সদস্যকে জানানো সম্ভব নয়। কারণ, এতে অপারেশনের গোপনীয়তা ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমরা আইন মেনেই কাজ করেছি।’

এদিকে প্রেসিডেন্টের একক যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কমিয়ে আনতে নিম্নকক্ষ ও সিনেটে ‘ওয়ার পাওয়ার রেজল্যুশন’ খসড়া করা হয়েছে। যদিও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে এটি পাস হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। গতকাল ২ মার্চ তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ইরানে এখন পর্যন্ত ৫৫০ জনের অধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৫ জনই একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিশু বলে বলে জানিয়েছে ইরান। অপর দিকে ইসরায়েলে নিহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।

তাড়া নেই, চুক্তি সই না হলে অবরোধ চলবেই: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ বলছেন ট্রাম্প, উদ্বেগে ইসরায়েল

হোয়াইট হাউসের বাইরে গোলাগুলি, নিজেকে ‘ঈশ্বর’ দাবি করতেন নিহত বন্দুকধারী

চুক্তি নাকি হামলা, রোববারের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের ফিরতে হবে নিজ দেশে

এআইয়ের নাম শুনেই খেপে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীরা

পদত্যাগ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড

ইরান যুদ্ধের জন্য তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র

মাত্র ৫০ ডলারে ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট দিচ্ছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত আমরা কেড়ে নেব, ধ্বংস করব: ট্রাম্প