পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচি উপকূলে পাঁচজন ক্রুসহ একটি মালবাহী (কার্গো) বিমান নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটি খুঁজে বের করতে বর্তমানে আরব সাগরে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ) জানিয়েছে, বোয়িং ৭৩৭ মডেলের এই বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাহ থেকে করাচির দিকে আসছিল। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করার পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে বিমানটির পাইলট দিকনির্দেশনা ব্যবস্থায় (নেভিগেশন সিস্টেম) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
নিখোঁজ বিমানটি করাচিভিত্তিক বেসরকারি কার্গো বিমান সংস্থা ‘কে-টু এয়ারওয়েজ’ পরিচালনা করছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০১৮ সালে এই এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠিত হয়।
আজ বুধবার এক বিবৃতিতে কে-টু এয়ারওয়েজ বিমানে থাকা পাঁচজন ক্রুর পরিচয় নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘পাকিস্তান সিভিল অ্যাভিয়েশন অথোরিটি এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে।’
বিবৃতিতে তারা আরও বলে, ‘আমরা আমাদের সহকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আন্তরিকভাবে ও গভীরভাবে প্রার্থনা করছি।’
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাডার থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বিমানটির উচ্চতায় চরম ওঠানামা বা তারতম্য লক্ষ্য করা যায় এবং এর পরপরই এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে খাড়া নিচের দিকে নেমে যেতে থাকে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ বিমান ও ক্রুদের অবস্থান শনাক্ত করতে পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীসহ একাধিক সরকারি সংস্থাকে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানে এর আগে সবশেষ বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০২০ সালে। সে বছর পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) একটি যাত্রীবাহী অভ্যন্তরীণ বিমান করাচি বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের সময় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ৯৯ জন আরোহীর মধ্যে ৯৭ জনই নিহত হয়েছিলেন।