ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাবার জানাজায় উপস্থিত নাও হতে পারেন বলে জানিয়েছেন ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহী। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এলাহী বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে আসতে নিরুৎসাহিত করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমি ইরানে ছিলাম। সেখানে এমন কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়েছে, যারা তাঁর (মোজতবা খামেনির) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা বলেছেন, তিনি বাইরে আসতে চান, মানুষের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে অনুমতি দিচ্ছেন না।’
এলাহী আরও বলেন, ‘তাদের বক্তব্য—এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই আমার ধারণা, তিনি প্রকাশ্যে আসবেন না।’
প্রসঙ্গত, আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই ইরানের বিভিন্ন শহরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এর পরদিন, অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৭ জুলাই কোয়ম শহরে আরেকটি জানাজা হবে।
কোয়মের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ৯ জুলাই আরেকটি জানাজা শেষে বিখ্যাত ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তেহরানে জড়ো হয়েছেন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এলাহী বলেন, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর থেকে পুরো দেশ শোকাচ্ছন্ন। তাঁর সমর্থকদের কাছে এই ক্ষতি অপূরণীয়। তিনি বলেন, ‘এটি দেশের মানুষের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। তারা মনে করেন, তারা তাদের আত্মা ও প্রেরণার উৎসকে হারিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, তাঁর শূন্যস্থান কেউ পূরণ করতে পারবে না।’
তেহরানে যাওয়ার আগে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি বলেন, ইরানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং তার আদর্শের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে সেখানে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘তারা সংহতি প্রকাশ করতে আসছেন এবং বলতে চান—আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি, আমরা তাঁকে কখনো ভুলব না এবং তাঁর পথ অনুসরণ করব।’
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার হুমকি প্রসঙ্গে এলাহী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘অনেক দেশই ইরানের প্রশংসা করেছে এবং বলেছে, এই যুদ্ধে ইরান বিজয়ী হয়েছে। ইরান এখনো খুব শক্তিশালী এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।’