একটি নারী ফুটবল ক্লাব এ মাসেই দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গিয়ে খেলবে। ২০১৮ সালের পর এটিই হবে দেশটির কোনো ক্রীড়া দলের প্রথম দক্ষিণ কোরিয়া সফর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিউলের একীভূতকরণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কোরীয় যুদ্ধের মাধ্যমে বিভাজিত দুই দেশ ১৯৫০-৫৩ সালের একটি শান্তিচুক্তির আওতায় অস্ত্রবিরতিতে থাকলেও তাদের মধ্যে এখনও এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা রয়ে গেছে। ফলে তাদের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় খুবই বিরল। তবে এরই মধ্যে নেগোহিয়াং উইমেনস এফসি আগামী ২০ মে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার সুয়োন এফসি উইমেনের মুখোমুখি হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রণালয় আজ সোমবার জানিয়েছে, সফরকারী দলে ২৭ জন খেলোয়াড় ও ১২ জন ক্লাব কর্মকর্তা থাকবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, দলটি ১৭ মে পৌঁছাবে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তারা বেইজিং থেকে এয়ার চায়নার একটি ফ্লাইটে ইনচন বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।
রাজধানীর সিউলের দক্ষিণে অবস্থিত সুয়োন স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচের বিজয়ী দল ২৩ মে এশিয়ার শীর্ষ নারী ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সিটি বা জাপানের টোকিও ভার্দি বেলেজা।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সেমিফাইনালে পরাজিত হলে উত্তর কোরিয়ার দলটি ২১ মে দেশে ফিরে যাবে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী কোনো ম্যাচ থাকবে না। এই ম্যাচটি হবে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার, যখন উত্তর কোরিয়ার কোনো ক্রীড়া দল দক্ষিণ কোরিয়ায় খেলতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে শুটিং, যুব ফুটবল ও টেবিল টেনিস দল সেখানে সফর করেছিল।
এর আগে, সর্বশেষ ২০১৪ সালে পিয়ংইয়ং একটি নারী ফুটবল দল দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠায়, যখন উত্তর কোরিয়ার জাতীয় দল ইনচনে এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং উত্তর কোরিয়ার রাজধানীভিত্তিক নেগোহিয়াং দলের বড় অংশই জাতীয় দলের মানের খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
উত্তর কোরিয়ার নারী জাতীয় দল এশিয়ার নারী ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী দল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা একাধিক আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছে, বিশেষ করে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে। সবশেষ সাফল্য আসে গত বছরের নভেম্বর মাসে। সে সময় তারা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে।