ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনতে যাচ্ছে জাপান। ধারণা করা হচ্ছে, আজ সোমবারের মধ্যেই রাশিয়ান তেলবাহী একটি ট্যাংকার জাপানি বন্দরে নোঙর করতে পারে। মূলত, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট তীব্র চাপ কাটাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু জাপানি সংবাদমাধ্যম দ্য মাইনিচির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তেলবাহী একটি ট্যাংকার জাপানের দিকে রওনা হয়েছে। এই তেল এসেছে রাশিয়ার শাখালিন-২ প্রকল্প থেকে। এটি রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রমের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প। এতে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও মিতসুই অ্যান্ড কো. বড় অংশীদার হিসেবে যুক্ত।
এই চালানটি কিনেছে জাপানের পাইকারি জ্বালানি কোম্পানি তাইয়ো অয়েল কোং। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এই রুশ তেল পড়ছে না।
মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটি এপ্রিলের শেষ দিকে সাখালিন থেকে যাত্রা শুরু করে। একই সূত্র জানায়, এটি জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের এহিমে প্রিফেকচারে পৌঁছানোর কথা। তবে জাপানি সংবাদমাধ্যম ইউমিউরি শিম্বুন জানিয়েছে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারটি আজ সোমবারের মধ্যেই এহিমে প্রিফেকচারের ইমাবারি শহরে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চালানটি ইমাবারিতে অবস্থিত কোম্পানিটির শিকোকু রিফাইনারি স্থাপনায় গ্রহণ করা হবে।
শাখালিন-২ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না। তাইয়ো অয়েলের মতে, এই চালান গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থনীতি মন্ত্রণালয় থেকেই অনুরোধ করা হয়েছিল। তাইয়ো অয়েল ও জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, তেলবাহী ট্যাংকারটি এপ্রিলের শেষ দিকে সাখালিন থেকে যাত্রা শুরু করে।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যদিও বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও ওই অঞ্চলে সমুদ্রপথে চলাচল এখনো কঠোরভাবে সীমিত।