সুইজারল্যান্ডের একটি অভিজাত স্কি রিসোর্টে নতুন বছর উদ্যাপনের আনন্দ মুহূর্তেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে রূপ নিয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রাঁস-মঁতানা স্কি রিসোর্টে নববর্ষের রাতে একটি জনাকীর্ণ বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার রাতে (১ জানুয়ারি) রয়টার্স জানিয়েছে, নববর্ষের আলো ঝলমলে রাতে ‘লে কঁস্তেলাসিওঁ’ বারে পার্টি করতে আসা লোকজন হঠাৎ আগুনে ঘেরাও হয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ডমিনিক ডুবোয়া জানান, তিনি যখন বারের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখনই দেখেন পুরো ভবন আগুনে জ্বলছে। চারদিকে কমলা, হলুদ আর লাল আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল। আগুন থেকে যারা কোনোভাবে বের হতে পেরেছিলেন, তাদের অনেকেই তীব্র শীতের মধ্যে রাস্তায় আটকে পড়েন। তখন রেস্তোরাঁর পর্দা ও কাপড় ব্যবহার করে অনেক মানুষকে গরম রাখার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী স্যামুয়েল র্যাপ কাছের একটি ম্যাক্সিকান রেস্তোরাঁয় খাবার খাচ্ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে তিনি বান্ধবীকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তিনি দেখেন পুলিশ ও প্যারামেডিকেরা নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে। র্যাপ বলেন, ‘মানুষ চিৎকার করছিল, আবার অনেকে মাটিতে পড়ে ছিল—সম্ভবত তারা মৃত। কারও মুখ ঢেকে রাখা হয়েছিল জ্যাকেট দিয়ে।’
রাত দেড়টার দিকে আগুন লাগে বলে জানা গেছে। প্রথমে বিস্ফোরণের খবর এলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়; দুর্ঘটনাজনিত আগুন বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে অনেকেই একে অপরকে মাড়িয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন—এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত ও বেঁচে যাওয়া মানুষদের আশ্রয় দিতে কাছের একটি ইউবিএস ব্যাংক শাখা খুলে দেওয়া হয়। সেখানে টেবিল সরিয়ে জরুরি চিকিৎসা ও আহতদের প্রাথমিক বাছাই করা হয়। রাতভর অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়া করে এবং হেলিকপ্টারে করে গুরুতর আহতদের অন্য শহরের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
পরদিন সকালে ঘটনাস্থলে সাদা কাপড়ে ঢাকা বার, বাইরে স্থাপিত একটি অস্থায়ী তাঁবু এবং একটি মৃতদেহবাহী গাড়ি দেখা গেছে।