ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। খামেনির মৃত্যুতে আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা। এদিকে গতকাল উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ইরান সংকট নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
খামেনি হত্যাকে ‘সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজশকিন। এ ছাড়া দেশটির অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়া খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে নিন্দা জানিয়েছে চীন। বে-আইনিভাবে আগ্রাসন চালিয়ে খামেনিকে হত্যার তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া।
খামেনির নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরাকি নেতারা। তাঁদের মধ্যে ইরাকের রাজনীতিবিদ মুক্তাদা আল-সদরও রয়েছেন। খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আল-সদর। পাকিস্তানে রীতিমতো বিক্ষোভ করেছে ইরানপন্থীরা। দেশটিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলার সময় অন্তত ৯ জন মারা গেছেন।
এদিকে খামেনি নিহতের ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইরানের বিরোধী দলের নেতা রেজা পাহলভি। তিনি বলেন, খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইসলামিক রিপাবলিকের পতন হয়েছে। তারা অচিরেই ইতিহাসের ‘ডাস্টবিনে’ পতিত হবে। এ সুযোগে ইরানিদের শাসক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, খামেনির মৃত্যুতে তাদের দেশের কিছু মানুষ শোক জানাবে। এদিকে খামেনির মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করেছেন ইরানি আমেরিকানরা।
ইরানে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই ঘটনার পর আক্রান্ত দেশগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি সূত্র জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমন্বয়ে গঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল ইরান সংকট নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।