দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি প্রস্তাবকে ‘প্রতারণামূলক প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করার কয়েক সপ্তাহের মাথায় আবারও পূর্ব দিকে রহস্যময় ‘অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র’ উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। আজ শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপ কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া অন্তত একটি অজ্ঞাত বস্তু পূর্ব দিকে নিক্ষেপ করেছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন বা এটি কতদূর গিয়ে পড়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়া ও ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা মিত্রদের মধ্যে যখন কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল। এর আগে পিয়ংইয়ং সিউলের শান্তি প্রচেষ্টাকে ‘কদর্য ও প্রতারণামূলক প্রহসন’ বলে অভিহিত করে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিল।
উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক উসকানির কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছিলেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করাকে ‘ইতিবাচক’ বলে মনে করছেন। ট্রাম্পের আসন্ন এপ্রিল মাসের বেইজিং সফরের সময় এই ঐতিহাসিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিম মিন-সকের মতে, ট্রাম্প তাঁকে বলেছেন—‘কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করাটা ভালো হবে। আমরা যখন চীন সফরে যাব তখন এটি হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।’
দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করলেও শীর্ষ সম্মেলন, নিষেধাজ্ঞা কিংবা কূটনৈতিক চাপ খুব একটা কার্যকর হয়নি। গত অক্টোবর মাসে এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে ‘১০০ শতাংশ’ উন্মুক্ত থাকার কথা বললেও পিয়ংইয়ং তখন কোনো সাড়া দেয়নি। তবে সম্প্রতি কিম জং উন জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি উত্তর কোরিয়ার ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের’ মর্যাদাকে মেনে নেয়, তবেই দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক সম্ভব।
উত্তর কোরিয়ার এই সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কি কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন, নাকি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে দর-কষাকষির একটি কৌশল—তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।