বিশ্বের দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী নেতা সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রদের আহ্বান জানিয়েছেন। এ সম্পর্কিত এক ঘোষণায় তাঁরা একে বৈষম্যকে স্থায়ীত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মৃত্যুদণ্ড বিরোধী ব্যবসায়ী নেতা’ শীর্ষক একটি প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত মার্চে স্যার রিচার্ড ব্র্যানসনের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ থেকে দেওয়া আজকের ঘোষণায় দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী নেতা সই করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ফ্যাশন দুনিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ফ্রাঁসোয়া-অঁরি পিনো, বেন কোহেন ও বেন অ্যান্ড জেরির জেরি গ্রিনফিল্ড, আরিয়ানা হাফিংটন ও ইউনিলিভার ও বেয়ারের নেতৃবৃন্দ।
আগামী ১০ অক্টোবর বিশ্ব মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবস। ওই দিনকে সামনে রেখেই এ বিশেষ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে সই করে প্রথমবারের মতো এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ওয়াই কম্বিনেটরের সহপ্রতিষ্ঠাতা পল গ্রাহাম, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেক্রেটারি অব ইন্টেরিয়র ও আরইআই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী স্যালি জুয়েল।
এ সম্পর্কিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘অপরিবর্তনীয় ও চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ভীষণ অমানবিক। মানুষের মর্যাদার সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক। সারা বিশ্বের উচিত নৈতিক অবস্থান থেকেই এই শাস্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং এই দাবিকে সমর্থন করা।’
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ১৭০ টির বেশি দেশ এরই মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রদ করেছে বা এটি কার্যকর বন্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৩টি অঙ্গরাজ্য এরই মধ্যে একে বেআইনি ঘোষণা করেছে। আরও চার অঙ্গরাজ্য এই দণ্ড কার্যকর বন্ধ রেখেছে। অনেক স্থানে আইনটি থাকলেও এর প্রয়োগ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু বহু অঙ্গরাজ্যে এই দণ্ড কার্যকরের ঘটনা প্রায় বন্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর এখনো বেশ কিছু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০২০ সালেই দেশটিতে ১৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা ৭ টি। সর্বশেষ ৫ অক্টোবর মিসৌরিতে আর্নেস্ট জনসনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এটি কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস পর্যন্ত। কিন্তু তা বন্ধ করা হয়নি।