হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ঘনিয়ে আসছে ডেডলাইন: চুক্তি অথবা হামলা—কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সংকটময় মুহূর্তে উপস্থিত হয়েছেন, দেখাবে তাঁকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় তিনি ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করার যে হুমকি দিয়েছেন তা আজ মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় মান সময় রাত ৮টা থেকে শুরু করবেন, অথবা আলোচনার সুযোগ দিতে আবারও সময়সীমা বাড়িয়ে দেবেন।

ট্রাম্প ইরানের প্রতিটি সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি আরও কিছু বিকল্প লক্ষ্যবস্তু রয়েছে যা সাধারণ ইরানিদের জন্য বিধ্বংসী পরিণতি বয়ে আনবে এবং সমগ্র অঞ্চলে বিপজ্জনক পাল্টা হামলার সূত্রপাত করবে।

পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে অথবা অন্ততপক্ষে সময় বাড়ানোর মাধ্যমে এই পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করছেন। মার্কিন-ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যদি দেখেন যে কোনো চুক্তি হতে যাচ্ছে, তবে তিনি হয়তো থামবেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কেবল তিনি একাই নেবেন।’ তবে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, এবার আর সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা কম।

ট্রাম্পের চিন্তাভাবনা এবং চলমান কূটনীতি সম্পর্কে সরাসরি অবগত ছয় মার্কিন কর্মকর্তা ও সূত্রের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই বিবরণ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন এক মার্কিন সূত্রের মতে, ট্রাম্প সম্ভবত তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে ইরানের বিষয়ে সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখাচ্ছেন।’ তিনি এই খবরগুলো উড়িয়ে দিয়েছেন যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁকে ইরানে ব্যাপক হামলার জন্য প্ররোচিত করছেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্টের তুলনায় ওই ব্যক্তিরা বরং নমনীয়।’

ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টা এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইছেন, ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডে (অবকাঠামো দিবস) সম্পর্কে আপনারা কী ভাবছেন?’

ট্রাম্পের নেগোসিয়েশন টিম বা আলোচক দল—যাতে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার—মনে করছে, সম্ভব হলে এখনই একটি চুক্তিতে আসা উচিত। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃবৃন্দ এবং সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মতো রাজনৈতিক মিত্ররা ট্রাম্পকে কোনো যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হতে অনুরোধ করছেন। তাঁদের দাবি, ইরান যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার মতো কঠিন শর্তগুলো মানছে, ততক্ষণ যেন কোনো চুক্তি না হয়।

ইরান গতকাল সোমবার তাদের ১০ দফার প্রস্তাব দিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা একে ‘কট্টরপন্থী’ বলে আখ্যা দিলেও হোয়াইট হাউস মনে করছে এটি আলোচনার একটি কৌশল মাত্র, প্রত্যাখ্যান নয়। মধ্যস্থতাকারীরা হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছেন, তাঁরা ইরানকে দিয়ে প্রস্তাবগুলো সংশোধন করার কাজ করছেন। তাঁরা সতর্ক করেছেন যে—ইরানিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীরগতির, তাই সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধীরগতি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ইরানি নেতারা দক্ষতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ট্রাম্প বলেন, ইরানি নেতাদের চিরকুট আদান-প্রদান করতে শিশুদের ব্যবহার করতে হচ্ছে। একটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প সম্ভবত সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি যেভাবে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বা তাঁর অধীনস্থদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সেই বিষয়টিই ইঙ্গিত করেছেন।

ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরলেও বলেছেন যে একটি চুক্তি এখনো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশটি এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং সেটি হয়তো আগামীকাল রাতেই ঘটবে। আমাদের এমন পরিকল্পনা আছে যেখানে আগামীকাল রাত ১২টার মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস হয়ে যাবে। ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অকেজো হয়ে পড়বে, জ্বলবে, বিস্ফোরিত হবে এবং আর কখনোই ব্যবহার করা যাবে না। আমি বলতে চাইছি, রাত ১২টার মধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটবে এবং আমরা চাইলে চার ঘণ্টার মধ্যেই তা হবে। তবে আমরা চাই না এমনটা হোক।’

অন্যদিকে, ট্রাম্প এ-ও বলেছেন যে আলোচনা ‘ভালোভাবেই চলছে’ এবং অন্য পক্ষ ‘সরল বিশ্বাসে আলোচনা করছে’। তবে দুটি সূত্রের মতে, ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার একটি বিশাল পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ‘চুক্তি পেলে ট্রাম্প তা গ্রহণ করবেন, তবে ইরানিরা প্রস্তুত কি না তা স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাকর থাকবে।’

আটকা পড়েছেন ফিলিপাইনের মধ্যপ্রাচ্যগামী ৪০ হাজার শ্রমিক

ঈশ্বর সংঘাত পছন্দ না করলেও ইরান যুদ্ধে আমাদের সঙ্গে আছেন: ট্রাম্প

আমি যুদ্ধাপরাধের কেয়ার করি না: ট্রাম্প

বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে বসে ইরানি সংগীত শিল্পীর অভিনব প্রতিবাদ

অচেতন মোজতবার চিকিৎসা চলছে ইরানেই, জড়িত নেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে—টাইমসের প্রতিবেদন

চীনে নতুন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বললেন সি

ইরানিরা বোমার আওয়াজ শুনতে চায়, কারণ তারা মুক্তি চায়: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নয়, টোল নেওয়া উচিৎ যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ফিকে হচ্ছে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা

ইরানকে এক রাতেই ধ্বংস করা সম্ভব, হতে পারে মঙ্গলবারই: ট্রাম্প