মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ইরানের সাধারণ নাগরিকদের ট্রেন ব্যবহার না করার সতর্কতা দিয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ফারসি ভাষায় সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইরানের রেলপথে ভ্রমণ করা জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়, বেসামরিকদের ব্যবহৃত রেললাইন ও স্টেশনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এই সতর্কতা আসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া এক কঠোর আল্টিমেটামের প্রেক্ষিতে। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘এক রাতেই ইরানকে ধ্বংস করা সম্ভব, আর সেই রাত হয়তো আগামীকালই হতে পারে।’
এদিকে ইরান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দেওয়া প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে তারা স্থায়ী যুদ্ধের অবসান চায় বলে জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, ‘এক কোটি ৪০ লাখের বেশি ইরানি দেশ রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত।’ তিনি দেশের জন্য নিজের আত্মত্যাগের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরানের ওপর হামলার মাত্রা বাড়ানো হবে এবং মঙ্গলবারের হামলা আগের দিনের চেয়েও বড় হতে পারে। ইতিমধ্যে ইরানের খোররমাবাদ বিমানবন্দর ও রাজধানী তেহরানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা শিরাজের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে তেহরানে বিপ্লবী গার্ড কোরের একটি ঘাঁটিতে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। কারণ এতে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেশি।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। একই সময়ে সৌদি আরবের জুবাইল শহরের একটি শিল্প এলাকায় পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেল বাজারেও প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।