মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সরকারকে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানো থেকে বিরত রাখবে—এমন রক্ষাকবচ ছাড়াই পেন্টাগন অ্যানথ্রপিকের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়। এ বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই কীভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনী ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে পেন্টাগন ও সিলিকন ভ্যালির সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। সর্বোচ্চ ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং অ্যানথ্রপিক এখন কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ছয়টি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
অ্যানথ্রপিকের এআই কীভাবে ব্যবহার করা হবে—এই অবস্থানই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ আরও তীব্র করেছে। এই বিরোধের বিস্তারিত আগে প্রকাশিত হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম বদলে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার (যুদ্ধ দপ্তর) করেছে। ওই দপ্তরের মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
অ্যানথ্রপিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এআই ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন মিশনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং আমরা যুদ্ধ দপ্তরের সঙ্গে সেই কাজ কীভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করছি।’
এই বিরোধ অ্যানথ্রপিকের পেন্টাগন-সংক্রান্ত ব্যবসার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কোম্পানিটি একটি সংবেদনশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এই স্টার্টআপটি ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা খাতে ব্যবসা বাড়াতে বিপুল সম্পদ ব্যয় করেছে এবং সরকারি এআই নীতিমালা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চেয়েছে। অ্যানথ্রপিক এমন কয়েকটি বড় এআই প্রতিষ্ঠানের একটি, যাদের গত বছর পেন্টাগন চুক্তি দিয়েছে। অন্যদের মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেটের গুগল, ইলন মাস্কের এক্সএআই এবং ওপেনএআই।
সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় অ্যানথ্রপিকের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, তাদের প্রযুক্তি পর্যাপ্ত মানবিক সুরক্ষার তদারকি ছাড়া অস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে বা মার্কিন নাগরিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহার হতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন কয়েকটি সূত্র।
পেন্টাগন এই নির্দেশিকাগুলোতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। জানুয়ারি ৯ তারিখের একটি এআই কৌশলসংক্রান্ত স্মারকের কথা উল্লেখ করে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন আইন মেনে চলা হলে বাণিজ্যিক এআই প্রযুক্তি কোম্পানির নিজস্ব ব্যবহারনীতির তোয়াক্কা না করেই তারা তা ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে সামনে এগোতে গেলে পেন্টাগনের অ্যানথ্রপিকের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলো এমনভাবে প্রশিক্ষিত, যাতে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে—এমন কাজ এড়িয়ে চলে। আর পেন্টাগনের প্রয়োজনে এই এআই পুনর্গঠন বা মানিয়ে নেওয়ার কাজ অ্যানথ্রপিকের কর্মীরাই করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্ররা। অ্যানথ্রপিকের এই সতর্ক অবস্থান এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের কারণ হয়েছে বলে জানিয়েছে সেমাফর।
চলতি সপ্তাহে নিজের ব্যক্তিগত ব্লগে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই লিখেছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষায় এআইয়ের সহায়তা প্রয়োজন, ‘তবে এমন কোনো উপায়ে নয়, যা আমাদের স্বৈরাচারী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো করে তোলে।’