ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে একটি শাটল বাসের কাছে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক এক কর্মকর্তার বরাতে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এই খবর দিয়েছে বিবিসি। হামলায় আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর গাঞ্জা টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানান, রুশ ড্রোন হামলাটি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস লক্ষ্য করে চালানো হয়। বাসটি ওই অঞ্চলের একটি খনি থেকে কর্ম শেষে শ্রমিকদের বহন করছিল।
ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি জ্বালানি কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, বাসটিতে তাদের খনিশ্রমিকেরা ছিলেন এবং এটি একটি পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই হামলায় মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তবে আঞ্চলিক প্রশাসন এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, রোববার ভোর ও রাতভর চালানো পৃথক রুশ হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় আরও অন্তত তিনজন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি মাতৃসদনে ড্রোন হামলার ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। হামলার সময় সন্তান প্রসব করছিলেন এমন দুই নারী আহত হন। ওই হামলায় মোট ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান ইভান ফেদোরভ।
ফেদোরভ টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এই হামলাকে ‘জীবনের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের আরেকটি প্রমাণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আহত সবাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছেন। তিনি হামলার পরের একটি ভিডিও ও ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায়—হাসপাতালের জানালা ভেঙে গেছে, কক্ষের ভেতরে ধোঁয়া, পোড়া ধ্বংসাবশেষ ও ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরো।
এ ছাড়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কেন্দ্রীয় শহর দিনিপ্রোতে পৃথক এক ড্রোন হামলায় একজন নারী ও একজন পুরুষ নিহত হয়েছেন বলে গাঞ্জা আগেই জানিয়েছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালায়। এতে দেশটির বিদ্যুৎ ও গরমের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে চলমান তীব্র শীতে এই হামলার প্রভাব আরও গভীর হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শীতকালীন এই সময়ের জন্য ইউক্রেনের বড় শহরগুলোতে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন। ক্রেমলিন অবশ্য পরে জানিয়ে দেয়, এই বিরতি রোববার পর্যন্তই কার্যকর থাকবে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় দফা আগামী বুধবার শুরু হবে। আগে এই আলোচনা রোববার হওয়ার কথা ছিল। তবে আলোচনার তারিখ পরিবর্তনের কারণ তিনি জানাননি। আলোচনাগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান জেলেনস্কি।