মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই লেবাননে সংবাদমাধ্যমের ওপর এক বিমান ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল। লেবাননের জিজিন রোডে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দুই পেশাদার সাংবাদিক এবং দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার (এনএনএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজিন রোডে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের (মিডিয়া টিম) গাড়ি লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন প্রাণ হারান।
নিহত সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে তাদের স্ব-স্ব সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে আলী শুয়েব লেবাননের জনপ্রিয় চ্যানেল আল-মানার টিভির সাংবাদিক। আর ফাতিমা ফাতুনি আল-মায়াদিন সংবাদমাধ্যমের সাহসী রিপোর্টার।
আল-মানার টিভি তাদের দুই কর্মীর মৃত্যুর খবর প্রচার করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া হামলায় আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধের ময়দান থেকে সংবাদ সংগ্রহের সময় এভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সত্য প্রকাশে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ওপর এই হামলা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল।
লেবাননের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে সংবাদকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে যাতে যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা যায়।
এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি স্থল অভিযানের সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভেতরে চরম ‘ক্লান্তি’র খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান ও ইয়েমেনের পক্ষ থেকে আসা নতুন হুমকি পুরো অঞ্চলকে এক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
একদিকে যখন পাকিস্তান ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার আয়োজন করছে, অন্যদিকে লেবাননের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা প্রমাণ করে যে কূটনীতির পাশাপাশি যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রতি মুহূর্তেই সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।