ইরানের একটি স্কুলে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৮৫ জন নিহতের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হামলার কৌশল, প্রযুক্তির নির্ভুলতা এবং বেসামরিক প্রাণহানির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তসলিমা নাসরিন এক্সে লেখেন, যুদ্ধবিমান সরাসরি শহরে প্রবেশ না করে দূর থেকে ‘স্ট্যান্ড-অব’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং ইরানের রাডার এড়িয়ে হামলা চালিয়েছে, এটি ভালো। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র কেন একটি স্কুলে গিয়ে পড়ল, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নাসরিন বলেন, যখন প্রযুক্তি এত উন্নত, তখন এ ধরনের ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট’ আঘাত বা বেসামরিক মানুষের মৃত্যু কি কেবল দুর্ঘটনা, নাকি আতঙ্ক সৃষ্টির কৌশল?
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি নৌঘাঁটি। কিন্তু পাশেই যে একটি স্কুল খোলা ছিল এবং সেখানে শতাধিক ছাত্রী উপস্থিত ছিল, তা কি জানা ছিল না?
তিনি প্রশ্ন করেন, জানা ছিল, তবুও স্কুলছাত্রীদের কথা ভাবা হলো না কেন? নাকি এটি গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতা? এমন ব্যর্থতা নিয়ে যুদ্ধে জড়ানো ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, নারীবিরোধী শাসনব্যবস্থার অপসারণ নারীর মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে। তবে তা যেন অসংখ্য কিশোরীর প্রাণের বিনিময়ে না হয়। নির্ভুল প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে না পারলে যুদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।