ইসলামকে ‘হিংস্র মতাদর্শ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে ব্রিটিশ-ইসরায়েলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার স্যামি ইয়াহুদের ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, দেশটিতে ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশে আসা কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, একটি বক্তৃতা দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় সফরে যাওয়ার কথা ছিল ২৫ বছর বয়সী স্যামি ইয়াহুদের। তবে নির্ধারিত ফ্লাইটের মাত্র তিন ঘণ্টা আগে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এই বিষয়ে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ইয়াহুদ জানান, তিনি ইসরায়েল থেকে আবুধাবি পৌঁছালেও মেলবোর্নগামী সংযোগ ফ্লাইটে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, ‘যদি কেউ অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চান, তবে তাকে সঠিক ভিসায় এবং সঠিক উদ্দেশে আসতে হবে। ঘৃণা ছড়ানো অস্ট্রেলিয়ায় আসার কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ নয়।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসলাম ধর্মকে ‘মার্ডারাস আইডিওলজি’ বা ‘হত্যাপ্রবণ মতাদর্শ’ বলে মন্তব্য করেন ইয়াহুদ এবং ‘ইসলাম নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে’ বলেও পোস্ট দেন। নিজেকে একজন গর্বিত ইহুদি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি ইসরায়েলে স্থায়ী হয়েছেন।
ভিসা বাতিলের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে সেন্সরশিপ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেছেন ইয়াহুদ। তাঁর দাবি, তিনি কোনোভাবেই ঘৃণা ছড়াননি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন—অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর সফর ছিল ইহুদি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাহস, বিশ্বাস ও ঐক্য নিয়ে আলোচনা করার জন্য।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ অ্যাসোসিয়েশন (এজেএ) ইয়াহুদের ভিসা বাতিলের নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এতে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট নতুন ঘৃণা ও অভিবাসন আইন পাস করেছে, যার আওতায় ঘৃণামূলক বক্তব্য বা চরমপন্থায় জড়িত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা যাবে। এর আগেও এসব ক্ষমতা ব্যবহার করে বিতর্কিত কয়েকজন ব্যক্তির অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।