মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান হওয়াই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তাঁর মূল বার্তা। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের এই কথা জানান ট্রাম্প। তিনি জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর আলোচনা ‘ভালো’ হয়েছে এবং শান্তি প্রক্রিয়া চলমান।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী ওই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়ে ট্রাম্প তেমন কিছু বলেননি। তবে আগের দিন তিনি দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা ‘যথেষ্ট কাছাকাছি’। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকটি ভালো ছিল। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’ পুতিনের জন্য তাঁর বার্তা কী—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন, ‘যুদ্ধ থামাতেই হবে।’
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত রয়েছেন। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে কিয়েভ শান্তিচুক্তির জন্য ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়েছে, যদিও মস্কোর পক্ষ থেকে যুদ্ধ থামানোর স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।
জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন পুনর্গঠনে অর্থায়ন নিয়ে চুক্তি সইয়ের সুযোগ থাকলেই তিনি দাভোসে যাবেন। তবে বৈঠকের পর তেমন কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দুই নেতা অন্তত ছয়বার সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন। ট্রাম্প ইউক্রেন বিষয়ে বাইডেন আমলের অবস্থান বদলে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনীতিতে ঝুঁকেছেন।
এদিকে ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রুশ বিমান হামলায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও কিয়েভে প্রায় তিন হাজার বহুতল ভবন গরম রাখার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বলেছেন, ‘উভয় পক্ষ যদি সমাধান চায়, তবে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে পারব।’ তিনি জানান, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উইটকফ ও আরেক মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার বৃহস্পতিবার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এরপর তাঁরা আবুধাবিতে সামরিক পর্যায়ের আলোচনা ও যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক প্যাকেজ নিয়ে কথা বলবেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার প্রভাবে ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক বন্ডের দামও বৃহস্পতিবার বেড়েছে। তবে একই দিনে ইউক্রেনের ওডেসা ও ক্রিভি রিহ অঞ্চলে রুশ হামলায় প্রাণহানি ও আহতের খবর মিলেছে, যা যুদ্ধের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে। রাশিয়া শান্তি উদ্যোগে এখনো শীতল মনোভাব দেখাচ্ছে। তারা ইউক্রেনের পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের বড় একটি অংশ এখনো নিজেদের দখলে রাখার বিষয়ে অবস্থান ধরে রেখেছে।