তুরস্কের উপকূলে একটি মনুষ্যবিহীন মার্কিন নৌযান শনাক্ত করার পর সেটি ধ্বংস করে দিয়েছে। তুরস্কের অরদু প্রদেশের সমুদ্র উপকূলের কাছে গোলাবারুদ বোঝাই এই নৌযানটি শনাক্ত করা হয় গতকাল শনিবার। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম তুর্কি টুডের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তুরস্কের অরদু প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, পরিদর্শকেরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত মনুষ্যবিহীন সারফেস ভেসেলটি সক্রিয় অবস্থায় ছিল এবং এতে গোলাবারুদভর্তি ছিল, তুর্কি সামরিক দল সেটিকে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিয়েরা নেভাদা করপোরেশন নির্মিত সামরিক মানের স্বয়ংচালিত ডুবোযান এইজিআইআর–ডব্লিউ শুক্রবার বিকেলে তুরস্কের কৃষ্ণসাগর উপকূলের উনিয়ে জেলার ইউজেলর মহল্লার একটি সৈকতে ভেসে ওঠে।
অজ্ঞাত বস্তুটি লক্ষ্য করা স্থানীয় বেসামরিক লোকজন কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে স্থানীয় নিরাপত্তা দল ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। ইস্তাম্বুলের এসএএস গ্রুপ কমান্ডের বিশেষজ্ঞরা শনিবার ভেসেলটি পরীক্ষা করে স্থানীয় সময় প্রায় দুপুর ২টার দিকে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে এটি এখনও কার্যক্ষম এবং এতে গোলাবারুদ রয়েছে বলে গভর্নরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এরপর জাহাজটিকে প্রায় চার কিলোমিটার সমুদ্রের ভেতরে টেনে নিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। অভিযান চলাকালে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের বাড়িঘর খালি করে দেওয়া হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ–সংক্রান্ত পরীক্ষায় এই নৌযানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। যদিও এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। কীভাবে ড্রোন জাহাজটি তুরস্কের উপকূলে এসে পৌঁছাল, সে বিষয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি এবং তদন্ত এখনও চলছে।
প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের নির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এইজিআইআর–ডব্লিউ ভ্যারিয়েন্টটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ মিটার, এর পাল্লা প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পর্যন্ত, গতি ২৫ নটের বেশি এবং এটি সর্বোচ্চ প্রায় ৩০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত বহন করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা মানব নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতে সক্ষম।