হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালি পারাপারে জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার নিচ্ছে ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। ছবি: এএফপি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী নির্দিষ্ট কিছু জাহাজ থেকে ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত কর আদায় শুরু করেছে ইরান। দেশটির একজন পার্লামেন্ট মেম্বার আজ রোববার (২২ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের ওপর ইরান তার ‘সার্বভৌমত্বের নতুন ধারণা’ প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

ওই অনুষ্ঠানে আলাউদ্দিন বোরুজেরদি বলেন, ‘কিছু জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার ট্রানজিট ফি আদায় করা ইরানের শক্তিরই প্রতিফলন। যেহেতু যুদ্ধের একটি বড় খরচ রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলো থেকে এই ফি নেওয়া হচ্ছে।’ বোরুজেরদির মতে, এর মাধ্যমে ইরান তার ‘কর্তৃত্ব’ ও ‘নতুন সার্বভৌম শাসনব্যবস্থা’র জানান দিচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের শুরুতেই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয়। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এবং বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে ইরান ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা এই অঞ্চলে ‘মার্কিন সামরিক সম্পদ’ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এই উত্তেজনা বিশ্ববাজার ও বিমান চলাচল ব্যবস্থাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শনিবার বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে সামান্যতম হামলা হলেও তারা ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেবে, যা পুরো অঞ্চলকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করতে পারে।

এর আগে গত শুক্রবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশেষ ‘অনুমোদিত নৌপথ’ চালুর ঘোষণা দেয় ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে এ পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তবে তার জন্য আগেভাগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে।

‘দৈনিক ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার’ অভিযোগে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করল সৌদি আরব

বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করলে যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে ইরান, তালিকা দিল আইআরজিসি

হেগসেথের সংবাদ সম্মেলনে নিষিদ্ধ হলো পেন্টাগনেরই সংবাদমাধ্যম

ইরানের জন্য গয়না-নগদ অর্থ দান করছেন কাশ্মীরিরা, এক মাসের বেতন দিলেন বিধায়ক

‘ইরানের বিনাশ নিশ্চিত’, এরপর দেশের ভেতরেই প্রধান শত্রু খুঁজে পেয়েছেন ট্রাম্প

যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে তুরস্ক

ইসরায়েলের পরমাণু স্থাপনার কাছে ইরানি হামলা: আহত বেড়ে ২০০, গুরুতর অবস্থা ১১ জনের

বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস করার হুমকি ইরানের

মাগা-সমর্থকদের স্বপ্নের নারী হয়ে ওঠা জেসিকা ফস্টারের আড়ালে যে প্রতারণা

তুরস্কের জলসীমায় গোলাবারুদভর্তি মার্কিন ড্রোন ডুবোযান