হোম > বিশ্ব > চীন

সি–স্টারমার বৈঠক: উত্থান–পতনের যুগ পেরিয়ে ‘পরিণত ও উন্নত সম্পর্কের’ যুগে চীন–যুক্তরাজ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

চীনা প্রেসিডেন্ট সির সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। ছবি: এএফপি

উত্থান–পতনের যুগ পেরিয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্ক। নতুন এই যুগকে ‘পরিণত ও উন্নত সম্পর্কে’র যুগে রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে বলেন, প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি ‘পরিণত ও উন্নত সম্পর্ক’ গড়ে তুলতে চান। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

চীনে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে স্টারমার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ৮০ মিনিটের বৈঠক করেন। এরপর তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এটি গত আট বছরে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। পরে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

মধ্য-বাম লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন স্টারমারের সরকার প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছেন। তবে গুপ্তচরবৃত্তি ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।

বৈঠকের শুরুতে সি চিনপিংকে স্টারমার বলেন, ‘চীন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। আমাদের এমন একটি আরও পরিণত সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে আমরা সহযোগিতার সুযোগগুলো চিহ্নিত করতে পারব, আবার যেখানে মতবিরোধ আছে, সেসব বিষয়েও অর্থবহ সংলাপ চালাতে পারব।’ জবাবে সি বলেন, চীন ও ব্রিটেনের সম্পর্ক নানা ‘উত্থান-পতনের’ মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো দেশেরই স্বার্থে ছিল না। তিনি বলেন, চীন ব্রিটেনের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত। চীনের শীর্ষ মন্ত্রীদের পাশে নিয়ে সি বলেন, ‘আমরা এমন একটি ফল দিতে পারি, যা ইতিহাসের পরীক্ষায় টিকে থাকবে।’

স্টারমার হচ্ছেন সর্বশেষ পশ্চিমা নেতা, যিনি চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত অবস্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ নিজেদের অবস্থান সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের বারবার বদলে যাওয়া বাণিজ্য শুল্কের হুমকি এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোকে, বিশেষ করে ব্রিটেনকে, বিরক্ত করেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির চীন সফরের পরপরই স্টারমারের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কার্নি বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি সই করেছেন, যার লক্ষ্য বাণিজ্য বাধা দূর করা। এ চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কিংস কলেজ লন্ডনের চীনা অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কেরি ব্রাউন বলেন, তিনি আশা করছেন ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে একাধিক চুক্তি ঘোষণা করা হবে, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দেবে। স্টারমারের সফরসঙ্গী হিসেবে ৫০ জনের বেশি ব্যবসায়ী নেতা রয়েছেন। এটিও ইঙ্গিত দেয় যে তিনি অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে চাইছেন।

আগের রক্ষণশীল (কনজারভেটিভ) সরকারগুলোর সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগে কিছু চীনা বিনিয়োগ সীমিত করা হয় এবং হংকংয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর ফলে ব্রিটেন-চীন সম্পর্ক কয়েক বছর ধরে অবনতি ঘটেছিল। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে স্টারমার চীনের সঙ্গে নতুন করে সম্পৃক্ততার নীতি গ্রহণ করেছেন।

সিকে স্টারমার বলেন, ‘১৮ মাস আগে, আমরা যখন সরকারে নির্বাচিত হই, তখন আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে ব্রিটেনকে আবার বিশ্বমুখী করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারণ, আমরা সবাই জানি—বিদেশের ঘটনাগুলো আমাদের নিজ নিজ দেশের ভেতরে কী ঘটে, তার ওপর প্রভাব ফেলে। সুপারমার্কেটের পণ্যের দাম থেকে শুরু করে আমরা কতটা নিরাপদ বোধ করি—সবকিছুর ওপরই এর প্রভাব পড়ে।’

ব্রিটেনের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বুধবার বলেন, চীন যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে, সে কারণে তিনি হলে চীনে যেতেন না। ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলেছে, চীন নিয়মিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালায়। তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দুই দেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তার একটি উদাহরণ হিসেবে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, স্টারমার ও সি অবৈধ অভিবাসী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেবেন।

এই চুক্তির আওতায় ইউরোপজুড়ে আশ্রয়প্রার্থীদের বহনে ব্যবহৃত ছোট নৌকায় চীনে তৈরি ইঞ্জিনের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, পাচারকারীদের সরবরাহপথ শনাক্ত করতে ব্রিটিশ ও চীনা কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করবেন। পাশাপাশি বৈধ চীনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সংগঠিত অপরাধচক্রের দ্বারা অপব্যবহৃত না হয়, সে জন্য চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করা হবে।

চীনে যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, মানবাধিকার বিষয়ে ‘যেসব ইস্যু তোলার প্রয়োজন আছে, সেগুলো তিনি তুলবেন।’ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি হংকংয়ের সাবেক মিডিয়া ব্যবসায়ী ও ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইয়ের বিষয়টি তুলবেন কি না। জিমি লাই ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত হন।

বুধবার গভীর রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর স্টারমার রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করেন। ওই রেস্তোরাঁটি মাশরুমসমৃদ্ধ খাবারের জন্য পরিচিত। এর আগে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেনও সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে স্টারমার রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে চীনা ভাষায় ধন্যবাদ বলার শব্দ ‘শিয়ে শিয়ে’ উচ্চারণ অনুশীলন করেন এবং ছবি তোলেন। চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।

নতুন দিকে মোড় নিল চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক

দাম্পত্য সম্পর্কে যৌনমিলনের ‘বাধ্যবাধকতা’ বিলুপ্ত করছে ফ্রান্স

তীব্র শীতে কিয়েভে এক সপ্তাহ হামলা করবেন না পুতিন, কথা দিলেন ট্রাম্পকে

মাফিয়া পরিবারের সেই ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

প্রয়োজনে ইরান থেকে নিজেদের বিজ্ঞানীদের সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রাশিয়া

ইমরান খান কি অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন

গোপনে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও করা চীনাকে আশ্রয় দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করছে ইইউ

চীন ভ্রমণে ভিসা লাগবে না ব্রিটিশদের, বেইজিংয়ে ১০ চুক্তি

ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জে’র পরিস্থিতি তৈরিতে সুপরিকল্পিত হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প