মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ইরানে চলমান যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হতে পারে। এ সময় তিনি এই সামরিক অভিযানের পক্ষ সমর্থন করেন এবং এই সংঘাতের বিষয়ে ওয়াশিংটনের লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন শুরু করে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বা মিসাইল লঞ্চার, নৌ-সম্পদসহ সামরিক অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সাফল্যগুলো তুলে ধরেন এবং ইঙ্গিত দেন যে এটি শিগগির শেষ হতে পারে। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে একটি ‘ছোট সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ‘কিছু অশুভ’ শক্তিকে নির্মূল করার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবিশ্বাস্য সক্ষমতার কারণে এই লড়াই হবে কঠোরভাবে একটি ‘ছোট সফর।’ তিনি আরও বলেন, এই অভিযানের কারণে অর্থনীতিতে একটি ‘সামান্য বিরতি’ এলেও তা বড় কিছু নয়; অর্থনীতি খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং এই ক্ষতি ‘তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবে।’
এ সময় ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত কার্যকর এবং ‘চমৎকার কাজের’ কারণে এত দ্রুত সমাপ্তি ঘটবে।
তিনি অগ্রগতির নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ করেন—সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের প্রায় ‘৮০ শতাংশ’ ধ্বংস করে দিয়েছে। যার ফলে তাদের সক্ষমতা এখন সামান্য পরিমাণে নেমে এসেছে। বাকি লঞ্চারগুলো খুব দ্রুতই নির্মূল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত অকেজো করে দেওয়া হয়েছে... ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং আমরা ড্রোন তৈরির কারখানাগুলোতেও হামলা চালাচ্ছি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অপারেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পৃথিবী ‘অনেক বেশি নিরাপদ’ হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সাড়ে তিন দিনে ইরানের ‘৪৬টি অত্যাধুনিক’ যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে।