দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করার পর অবশেষে ভুলবশত রাশিয়া স্বীকার করেছে—ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই কৃষ্ণসাগরে ডুবে গিয়েছিল তাদের বহুল আলোচিত যুদ্ধজাহাজ ‘মস্কোভা’। তবে এই স্বীকারোক্তি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তা মুছে ফেলা হয় এবং আবারও আগের সরকারি বক্তব্যে ফিরে যায় মস্কো।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সিএনএন জানিয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিলে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের প্রধান গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ‘মস্কোভা’ ডুবে যায়। সে সময় ইউক্রেন দাবি করেছিল, তাদের ‘নেপচুন’ অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইলের আঘাতেই জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরই বলেছে, জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হয়ে সেটি ডুবে যায়। এটি ছিল একটি ‘দুর্ঘটনা’।
সম্প্রতি মস্কোর একটি সামরিক আদালতের এক বিবৃতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই সরকারি বয়ান সংশোধিত হয়। স্বাধীন রুশ সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা জানিয়েছে, আদালত এক ইউক্রেনীয় নৌ-কমান্ডারের অনুপস্থিতিতে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঘোষণা দেন। ওই কমান্ডার ‘মস্কোভা’ ও আরেকটি রুশ জাহাজে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ‘মস্কোভা’ যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরে এবং সেটিই জাহাজ ডোবার কারণ হয়।
এই বিবৃতি দ্রুত আদালতের ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা হলেও, এর আগেই মিডিয়াজোনা সেটির কপি সংগ্রহ করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় জাহাজটির অন্তত ২০ জন নাবিক নিহত হন, ২৪ জন আহত হন এবং আটজন নিখোঁজ হন—যাদের মৃত্যুর কথা রুশ সামরিক বাহিনী কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
রাশিয়ার জন্য ‘মস্কোভা’র ডুবে যাওয়া ছিল যুদ্ধের অন্যতম লজ্জাজনক মুহূর্ত এবং ইউক্রেনের বড় সামরিক সাফল্য। ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেতেনচুক বলেন, নাবিকদের পরিবার প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করায় সত্য গোপন করা রাশিয়ার পক্ষে দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই বক্তব্য মুছে ফেলা রাশিয়ার তথ্যনিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা ব্যবস্থার আরেকটি ব্যর্থতার উদাহরণ। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ সরকার যে কঠোরভাবে বয়ান নিয়ন্ত্রণ করছে, এই ঘটনা তারই একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।