মাদুরোকে আটকের পর আজ হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হচ্ছেন দেশটির প্রধান বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে এই আলোচনার আবহের মধ্যেই ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ভেনেজুয়েলার তেল বহনকারী একটি জাহাজ জব্দের খবর পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলাসংশ্লিস্ট ছয়টি জাহাজ জব্দ করল ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সাউদার্ন কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভেরোনিকা নামের তেলের ট্যাংকারটি স্থানীয় সময় ভোরবেলা জব্দ করা হয়। জাহাজটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন করছিল।
৩ জানুয়ারি এক দুঃসাহসিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে একের পর এক ট্যাংকার জব্দ করে চলেছে।
এদিকে মাদুরোকে আটকের পর আজকের ট্রাম্প-মাচাদোর বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাচাদোর দল বিজয়ী হলেও মাদুরো ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকার করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান কিছুটা রহস্যময়।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মাচাদোকে ‘খুবই চমৎকার একজন নারী’ হিসেবে অভিহিত করলেও তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন।
সবচেয়ে মজার বিষয়, ট্রাম্প এখন মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। জানা গেছে, গতকাল বুধবারও রদ্রিগুয়েজের সঙ্গে ট্রাম্প দীর্ঘ ফোনালাপ করেছেন এবং তাঁদের সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মাদুরো গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেলসি রদ্রিগুয়েজ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিও নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে ভেনেজুয়েলা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প সম্ভবত মাচাদোর চেয়ে রদ্রিগুয়েজকেই তাঁর ‘তেল চুক্তি’ বা ‘গ্রেট এনার্জি ডিল’ বাস্তবায়নের জন্য বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন।