হোম > বিশ্ব > পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কখন, কোথায় ও কীভাবে হবে, অ্যাজেন্ডা কী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইসলামাবাদের রেড জোনে টহল দিচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীরা। ছবি: সংগৃহীত

ছয় সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শুরু হয় এক বিস্তৃত যুদ্ধ, যা বহু দেশে হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। বন্ধ হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলপথগুলোর একটি, আর জ্বালানির দাম ছুঁয়ে ফেলে রেকর্ড উচ্চতা। সেই প্রেক্ষাপটে আজ শনিবার ইসলামাবাদে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

ইসলামাবাদের রাস্তাঘাটে রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। আগেই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি—প্রত্যাশা ও উৎকণ্ঠা। কারণ, এই সপ্তাহান্তে এমন কিছু বৈঠক বসতে যাচ্ছে, যেদিকে তাকিয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব।

এই বৈঠক হচ্ছে এমন একসময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু সেই বিরতিও এখন টানাপোড়েনে—যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং লেবাননে ইসরায়েলের তীব্র বোমা হামলার কারণে।

যুদ্ধ চলাকালে ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপরও হামলা চালায়। এতে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র এবং বাণিজ্য, পর্যটন ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের পরপরই তেহরান কার্যত বন্ধ করে দেয় হরমুজ প্রণালি—যেখানে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। শুধু যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয় ইরান। এতে বৈশ্বিক বাজারে দেখা দেয় অস্থিরতা, জ্বালানির দাম বেড়ে যায় নজিরবিহীন পর্যায়ে।

এই সপ্তাহান্তে যুদ্ধের প্রধান পক্ষগুলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা জড়ো হবেন পাকিস্তানের সবুজে ঘেরা রাজধানী ইসলামাবাদে, মারগালা পাহাড়ের পাদদেশে। আসন্ন এই আলোচনা নিয়ে যা জানা দরকার—কারা থাকবেন, কোথায় হবে, আলোচনার বিষয় কী, কী কী বাধা আসতে পারে এবং বিশ্ব কী প্রত্যাশা করছে—সবকিছু নিচে তুলে ধরা হলো।

কখন ও কোথায় হবে বৈঠক?

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানোর পর আজ শনিবার ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে আলোচনা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আজ সকালেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ৮ এপ্রিল জানায়, আলোচনা ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ, প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্য শনিবারের পরও ইসলামাবাদে অবস্থান করতে পারেন, কিংবা পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য আবার ফিরতে পারেন।

বৈঠকের স্থান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে সেরেনা হোটেল। রাজধানীর ‘রেড জোনে’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশে অবস্থিত এই হোটেলটি বুধবার সন্ধ্যা থেকে রোববার পর্যন্ত পুরোপুরি খালি রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ৯ ও ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও জরুরি সেবা চালু থাকবে। শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, রেড জোন সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

কারা অংশ নেবেন?

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কোনো প্রতিনিধি থাকবেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিনিধিদলগুলো বাস্তবে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।

আলোচনা কীভাবে চলবে?

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। এরপর শনিবার মূল আলোচনা শুরু হবে, যেখানে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন। মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে বসবেন, আর পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বার্তা আদান-প্রদান করবেন।

ভ্যান্সের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ইরান আগে উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় হতাশ। কারণ, আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ভ্যান্সকে তুলনামূলকভাবে সংঘাত শেষ করার পক্ষে বেশি আগ্রহী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলোচনার টেবিলে কী আছে?

দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে রয়েছে—হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের তদারকি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘কার্যকর’ বলেছেন। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস দাবি করছে, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছেড়ে দিতে রাজি—যা তারা আলোচনার বাইরে রাখছে। কিন্তু ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সম্মতি দেয়নি।

আরেকটি বড় বিরোধ লেবাননকে ঘিরে। ইসরায়েল সম্প্রতি লেবাননে তীব্র বোমা হামলা চালিয়েছে, যেখানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। ইরান সতর্ক করেছে, এই হামলা চলতে থাকলে তারা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসতে পারে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও পড়ে।

কিন্তু ভ্যান্স ও হোয়াইট হাউস বলছে, লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা শুরু, বড় সাফল্যের অপেক্ষায় পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় যোগ দিচ্ছে চীন

ইরানের জব্দ অর্থ ছাড়ের খবর প্রত্যাখ্যান করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শাহবাজের পৃথক বৈঠক

ইরানের জব্দ অর্থ ছাড়ে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র: রয়টার্সের প্রতিবেদন

যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন

ক্ষমতা ছাড়ার আগে ‘গণক্ষমা’ করবেন ট্রাম্প!

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শরীরে এইচআইভি জীবাণু পুশ, তরুণীর আত্মহত্যা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী, সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে

ভ্যান্সের ইসলামাবাদ আগমন, পৌঁছে গেছে সব পক্ষ, আলোচনা শুরুর অপেক্ষা