চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর ও অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের গোপন চিত্র ধারণ ও প্রকাশের জন্য নিজ দেশে নিপীড়নের আশঙ্কায় থাকা এক চীনা নাগরিককে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিবাসন আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়—চীনে ফেরত পাঠানো হলে ওই ব্যক্তি বাস্তব ও যুক্তিসংগতভাবে নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়বেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তির নাম গুয়ান হেং। ৩৮ বছর বয়সী গুয়ান ২০২০ সালে শিনজিয়াংয়ে অবস্থিত কয়েকটি আটককেন্দ্র গোপনে ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে ইউটিউবে প্রকাশিত হয়।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, গুলানের এসব ভিডিও শিনজিয়াংয়ে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। সেখানে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষকে আটক রাখা হয়েছে।
২০২১ সালের অক্টোবরে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর গুয়ান হেং আশ্রয়ের আবেদন করেন। তবে চলতি বছরের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁকে আটক করা হয় এবং তখন থেকে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রথমে তাঁকে উগান্ডায় পাঠানোর উদ্যোগ নিলেও, জনমত ও কংগ্রেস সদস্যদের উদ্বেগের মুখে গত ডিসেম্বরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।
নিউইয়র্কের ন্যাপানোচে অনুষ্ঠিত শুনানিতে গুয়ান হেং আদালতকে জানান, আশ্রয়ের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ করেননি। ভিডিও লিংকে ব্রুম কাউন্টি কারাগার থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি নিপীড়িত উইঘুরদের প্রতি সহানুভূতি অনুভব করেছি।’ তিনি জানান, ভিডিও প্রকাশের জন্য চীন ছাড়ার বিকল্প ছিল না। তাই তিনি হংকং হয়ে ইকুয়েডর, বাহামা পাড়ি দিয়ে নৌকায় ফ্লোরিডায় পৌঁছান।
ভিডিও প্রকাশের পর চীনা পুলিশ তাঁর বাবাকে অন্তত তিনবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। চীন সরকার শিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, সেই কেন্দ্রগুলোতে কেবল ‘কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’ পরিচালিত হচ্ছে।
মার্কিন আদালতের রায়ে বিচারক চার্লস আউসল্যান্ডার বলেন, গুয়ান হেং একজন বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী এবং চীনে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে—এই আশঙ্কা যুক্তিসংগত। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখায় আপাতত তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। মার্কিন স্বরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষকে এই আপিলের জন্য ৩০ দিন সময় দিলেও আদালত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় অনুমোদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২০২৫ সালে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের এক দশকে ছিল ২৮ শতাংশ।