মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে তাঁর ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। আজ আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পাকিস্তানেরই কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এমতাবস্থায় ইসরায়েলের নীতিনির্ধারক মহলে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা।
যদিও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানেন, ট্রাম্প ইসরায়েলের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবেন। তবু পর্দার আড়ালে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এখন দানা বাঁধছে অস্বস্তি।
ইসরায়েল জানে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইসরায়েলের ভয় হলো—সমঝোতায় পৌঁছাতে ট্রাম্প কতটা ছাড় দেবেন?
ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র যে ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে, তা-ই সম্ভাব্য আলোচনার মূল কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে। এই আলোচনার আগে এক মাসব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও ইসরায়েলকে ভাবিয়ে তুলছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগের জায়গাগুলো তিনটি প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে।
প্রথমত, ইউরেনিয়াম মজুত। আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। ইসরায়েল জানতে চায়, এই ইউরেনিয়াম কি কোনো তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, নাকি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর করা হবে?
দ্বিতীয়ত, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ইরান কি নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করবে? ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করার গ্যারান্টি চাইছে তেল আবিব।
তৃতীয়ত, ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধকরণ। চুক্তি হলেও ইরান কি ভবিষ্যতে আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে পারবে? এই প্রশ্ন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ইসরায়েল বর্তমানে এই বিষয়গুলো ছাড়াও আরও কিছু দিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তারা আশা করছে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে যেন তারা আরও সময় পায়। এই বাড়তি সময়ের মধ্যে ইরানের ভেতরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করে দিতে চায় ইসরায়েলি বাহিনী। এর মাধ্যমে চুক্তির টেবিলে ইরানকে আরও দুর্বল অবস্থায় দেখতে চাইছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।