প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থাইল্যান্ডে বেড়েছে মাদকদ্রব্য মেথের চোরাচালান। অনেক সস্তায় মাদকটি পাওয়া যাচ্ছে।
মূলত মেকং নদী দিয়ে মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ডে যায় মাদকদ্রব্যটি। মানবসম্পদ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব থাকায় চোরাচালান ঠেকাতে পারছে না থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে স্থানীয়রা।
আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলে অবস্থিত দেশ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং লাওস। মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী দল এবং মিলিশিয়া বাহিনীর প্রধান আয়ের উৎস হলো থাইল্যান্ড এবং লাওসের সীমান্তবর্তী এলাকায় সিনথেটিক মাদকের ব্যবসা।
বর্তমানে চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় থাইল্যান্ডে মেথের দাম কমে গেছে। এক পিস মেথ ১ দশমিক ৬৬ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রা ১৪১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া গত ছয় মাসে থাইল্যান্ডে রেকর্ড আট কোটি ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এ নিয়ে জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধ বিষয়ক কর্মকর্তা জেরেমি ডগলাস বলেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমরা আরেকটি সিনথেটিক মাদকের চোরাচালানে উল্লম্ফন দেখতে পারি।
থাইল্যান্ডে নং খাই প্রদেশের একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রধান ৫৮ বছর বয়সী রাচিন সিনফো বলেন, আমরা ভুয়া জেলেদের ওপর নজর রাখি যাতে তারা মাছ ধরার নামে মাদক চোরাচালান না করতে পারে।
চোরাচালান থামাতে গিয়ে এসব স্বেচ্ছাসেবককে অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতারও সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তারা জানান, অস্ত্র না থাকায় মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে পেরে ওঠেন না তারা। কিন্তু সন্দেহজনক আচরণ দেখলেই পুলিশকে খবর দেন।
রাচিনের দলের প্রতি আস্থা জন্মেছে স্থানীয় জনগণেরও। দুয়াংফাইশ্রি নিনকেত নামের ৫৪ বছর বয়সী এক নারী বলেন, আমি ভয়ে থাকি। তারা আমার গ্রামে আবার মাদকব্যবসা শুরু করলে সমাজের মানুষ আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়বে। তবে রাচিনের দলের কর্মকাণ্ডে নিরাপদ বোধ করছি।